
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। মৌচাক এলাকার সাদামা ফ্যাশনওয়্যারের ডাইং ইউনিটে এখন ঘুটঘুটে অন্ধকার। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন ৪০ টন কাপড় ডাইং করা হতো, সেখানে এখন কোনো উৎপাদনই নেই। গ্যাস না থাকায় প্রক্রিয়াজাত করা কয়েক টন ভেজা কাপড় নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। গত রোববার কয়েক ঘণ্টা গ্যাসের চাপ কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও, এরপর থেকে তা ১ পিএসআইয়ের নিচে নেমে গেছে। ফলে সাড়ে ৩ মেগাওয়াটের গ্যাসচালিত জেনারেটর বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কারখানার মহাব্যবস্থাপক মঈনুল ইসলাম জানান, তৈরি পোশাকের কাপড় ডাইংয়ের কাজ ১৫ দিন আগেই সম্পন্ন করতে হয়। এক সপ্তাহ ধরে ডাইং ইউনিট বন্ধ থাকায় সুইং সেকশনে কাপড় সরবরাহ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিত হওয়ার মতো বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা করছেন তারা।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে প্রায় ৫ হাজার ছোট-বড় কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে ২ হাজার ৪০০টিতে গ্যাস সংযোগ আছে। ওষুধ, খাদ্যপণ্য, সিরামিক, ইস্পাত ও বস্ত্র খাতের কারখানাগুলো এখন চরম অনিশ্চয়তায়। ভবানীপুরের মোশাররফ কম্পোজিট টেক্সটাইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশাররফ হোসেন জানান, সক্ষমতার মাত্র ৩০-৩৫ শতাংশ উৎপাদন হচ্ছে। এই সামান্য উৎপাদনে শ্রমিকের বেতন ও ব্যাংকের কিস্তি পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
তুসুকা গ্রুপের উপমহাব্যবস্থাপক মো. সেরাজুল ইসলাম নথিপত্র দেখিয়ে জানান, ২২ জুলাই থেকে গ্যাসের চাপ অস্বাভাবিক কম। মাঝে গত রোববার ৪-৫ পিএসআই চাপ পাওয়া গেলেও তা স্থায়ী হয়নি। গ্যাস না থাকায় কারখানাটি সচল রাখতে দিনে ২০ থেকে ২১ হাজার লিটার ডিজেল কিনতে হচ্ছে। মহাব্যবস্থাপক মাসুম হোসেনের তথ্যমতে, গত তিন মাসে জ্বালানি বাবদ তাদের ২১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। এই বাড়তি খরচে লোকসানের মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এলএনজি টার্মিনালের যান্ত্রিক ত্রুটি ও কার্গো সংকটের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালগুলো থেকে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় শিল্প খাতে সংকট তীব্রতর হয়েছে। বুধবার থেকে এক্সিলারেটের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে চাকরি হারানোর আতঙ্ক বাড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কালিয়াকৈরের লিবাস টেক্সটাইল কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের মনোবল বাড়াতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে। মালিকপক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন এবং এক কাতারে বসে দুপুরের খাবার খেয়েছেন। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা চলছে এবং দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
তিতাসের গাজীপুর শাখার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, যতটুকু গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে তা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে, তবে তা চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য। গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খলিলুর রহমানও স্বীকার করেছেন যে, গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং কারখানাগুলো টিকে থাকতে বিভিন্নভাবে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দৈত্যকার ডাইং মেশিনগুলো অলস পড়ে আছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেই কাপড় শুকানোর কাজ করছেন কয়েকজন শ্রমিক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের পর সাদামা ফ্যাশনওয়্যারের কারখানায় গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই কারখানার মতো গাজীপুর জেলার গ্যাসনির্ভর অধিকাংশ শিল্পকারখানা তীব্র গ্যাস-সংকটে ভুগছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জেনারেটরের মাধ্যমে যেটুকু বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, তা দিয়ে কোনোরকমে সুইং সেকশন চালানো হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে লোডশেডিংয়ের কারণে সেখানেও মাঝেমধ্যে সমস্যা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তখন ক্রয়াদেশ স্থগিত বা বাতিলের মতো ঘটনা বাড়বে।
সূত্র: প্রথম আলো