
ভারতের রাজস্থান রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জয় পেলেও বড় ধরনের রাজনৈতিক স্বস্তি পায়নি। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, ১০ হাজার ২৪৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে বিজেপি ৪ হাজার ১৭৯টিতে এবং কংগ্রেস ৩ হাজার ৬১৩টিতে জয়ী হয়েছে। নির্দলীয় প্রার্থীরা জিতেছেন ২ হাজার ২৭৩টি ওয়ার্ডে। ৩০৯টি স্থানীয় সরকার সংস্থার মধ্যে বিজেপি ৮৬টিতে ও কংগ্রেস ৪৬টিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। বাকি ১৭৭টিতে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় বোর্ড গঠনের লড়াই এখনো বাকি রয়েছে।
নির্বাচনী ফলাফলে দুই প্রধান দলের মধ্যে ভোটের লড়াইয়ের চিত্রটি বেশ স্পষ্ট। মোট ভোটের হিসেবে বিজেপি পেয়েছে ৩৫ দশমিক ১৮ শতাংশ (৩৭ লাখ ৩৫ হাজার ৫৬৭ ভোট), অন্যদিকে কংগ্রেস পেয়েছে ৩৪ দশমিক ২৪ শতাংশ (৩৬ লাখ ৩৫ হাজার ৯৫২ ভোট)। অর্থাৎ, দুই দলের ভোটের ব্যবধান মাত্র শূন্য দশমিক ৯৪ শতাংশ বা ৯৯ হাজার ৬১৫ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন ২৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ ভোট, যা তাদের শক্তিশালী অবস্থানই নির্দেশ করছে।
বিজেপি এবারের নির্বাচনে দলীয় হেভিওয়েট নেতাদের প্রচারণায় নামিয়েও খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজের নিজের জেলা ঝালওয়ারে ৪৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টিতেই কংগ্রেস জয় পেয়েছে। এছাড়া রাজ্য বিজেপির সভাপতি মদন রাঠোরের এলাকা পালি পৌরসভায় ৬৫ আসনের মধ্যে কংগ্রেস জিতেছে ২৯টি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াতের জেলা যোধপুরে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে সমানে সমান (প্রতিটি ৪৪টি করে) লড়াই হয়েছে, যা বিজেপিকে বোর্ড গঠনের জন্য স্বতন্ত্র সদস্যদের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য করছে। এছাড়া বিকানির জেলাতেও বিজেপি হেরেছে।
৯ ও ১১ সেপ্টেম্বর দুই ধাপে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও চাকরিহীনতার মতো বিষয়গুলো বড় ইস্যু হিসেবে দেখা দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন প্রজন্মের ভোটাররা বিজেপির বিরুদ্ধে তাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন। রাজস্থানের তরুণ ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আবহ এই নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে সক্রিয় থাকা ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আশুতোশ রঙ্কার মতো নেতাদের এলাকায় এর প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।
ছোট দলগুলোর পারফরম্যান্সও এবার উল্লেখযোগ্য। রাষ্ট্রীয় লোকতান্ত্রিক পার্টি (আরএলপি) শূন্য দশমিক ৯৪ শতাংশ, আম আদমি পার্টি (এএপি) শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশ, সিপিআই (এম) শূন্য দশমিক ৩২ শতাংশ, বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ এবং ভারত আদিবাসী পার্টি (বিএপি) শূন্য দশমিক ১৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে। বামপন্থীদের প্রভাব বাড়ার প্রমাণ মিলেছে বিকানির জেলার নোখা পৌরসভায়, যা তারা দখল করেছে। বারান পৌরসভায় জিতেছে আম আদমি পার্টি।
রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি গোবিন্দ সিং দোতাসারা ফলাফলের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আগের নির্বাচনের তুলনায় ব্যবধান ৮ শতাংশ থেকে কমে এবার ১ শতাংশের নিচে নেমেছে। এই উত্থান ও ভোটের ব্যবধানের সংকুচিত হওয়া বিজেপিকে আগামী দিনগুলোতে দুশ্চিন্তায় রাখবে। যদিও সামনে রাজ্যসভার ভোট বাকি, কিন্তু স্থানীয় নির্বাচনের এই ফলাফল রাজস্থানের রাজনৈতিক মাঠ যে ক্রমেই প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। কোনো প্রার্থীকেই নয় এমন ভোট (নোটা) পড়েছে ১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ, যা অনেক ছোট দলের পাওয়া ভোটের চেয়েও বেশি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রকাশিত ফলাফলের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, বিজেপি ৪ হাজার ১৭৯টি ওয়ার্ডে জিতেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মধ্যে ৯৬টিতে কংগ্রেসের চেয়ে এগিয়ে আছে বিজেপি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁদের ভোটের মোট সংখ্যা ২৯ লাখ ৬ হাজার ৭৮৭। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এগুলোর মধ্যে ১০টি পৌরনিগম, ৫১টি পৌরপরিষদ ও ২৪৮টি পৌরসভা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গতকাল সোমবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ ১০ হাজার ২৪৪টি ওয়ার্ডের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াতের জেলা যোধপুরে বিজেপি ও কংগ্রেস সমান সমান (প্রতিটি ৪৪)। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেখানে বোর্ড গড়তে স্বতন্ত্র সদস্যদের সাহায্য নিতে হবে।
সূত্র: প্রথম আলো