মো. রমিজ আলী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: ২৫ মে ২০২৬ , ১১:৩৬:১২ প্রিন্ট সংস্করণ

সীতাকুণ্ডে বৈধ গরুর হাট বন্ধের অপচেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
‘ভুল তথ্য দিয়ে আদালতে রিট, সাধারণ মানুষের কোরবানির পশু কেনায় ভোগান্তি বাড়বে’
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বৈধভাবে ইজারা নেওয়া অস্থায়ী গরুর হাট বন্ধের অপচেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন হাটের ইজারাদার মো. সাজ্জাদ হোসেন। অভিযোগ করা হয়েছে, চট্টগ্রাম নগরের অলংকার গরু বেপারী সিন্ডিকেট ও সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষ আদালতে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে হাটটি বন্ধের চেষ্টা চালাচ্ছে। সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলে ধরা হয়। ইজারাদার মো. সাজ্জাদ হোসেনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. নাজিম উদ্দীন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে স্থানীয় জনসাধারণের চাহিদা বিবেচনায় সীতাকুণ্ড উপজেলার পাক্কা রাস্তার মাথা এলাকায় ড্রিম স্টিল রি-রোলিং মিলস মাঠে অস্থায়ী গরুর হাট স্থাপন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের অনুমোদনক্রমে উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে হাট ও বাজার স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী সম্পূর্ণ বৈধ প্রক্রিয়ায় হাটটি ইজারা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিধিমালার ১৫ নম্বর বিধি অনুযায়ী জেলা প্রশাসক অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা প্রদানের ক্ষমতা রাখেন। সেই ক্ষমতাবলে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে উন্মুক্ত দরপত্র বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতাকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে হাটটির ইজারা প্রদান করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, চট্টগ্রাম নগরের সাগরিকা গরুর হাটের ইজারাদার মো. ফজলে আলম চৌধুরী অন্যায় ও বেআইনি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সীতাকুণ্ডের এই হাট বন্ধের উদ্দেশ্যে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। রিট আবেদনে হাটটিকে অবৈধ ও অনুমোদনহীন দাবি করার পাশাপাশি এটি সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে এবং মহাসড়কের ওপর স্থাপিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, আদালতে উপস্থাপিত এসব তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, হাটটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় নয়; বরং সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত এলাকায় অবস্থিত। ফলে সিটি করপোরেশনের কোনো বাজারের সঙ্গে এর প্রশাসনিক বা আইনগত সম্পর্ক নেই। এছাড়া, সলিমপুর ইউনিয়নের একমাত্র গরুর হাট হিসেবে প্রথমবারের মতো অস্থায়ী ভিত্তিতে এটি চালু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, হাটটি বন্ধ হয়ে গেলে কোরবানির পশু কিনতে সাধারণ মানুষকে দূরবর্তী এলাকায় যেতে হবে, যা সময় ও অর্থ—দুই দিক থেকেই ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে রোববার সকালে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত হাট এলাকা পরিদর্শন করেছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। পরিদর্শন শেষে তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেবেন বলে জানা গেছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মো. খোরশেদ আলম, দিদারুল আলম, ড্রিম রি-রোলিং মিলস অস্থায়ী বাজারের পরিচালক সোহেল সরওয়ারসহ স্থানীয় বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি ও নেতৃবৃন্দ।



















