প্রতিনিধি 19 September 2026 , 12:17:41 প্রিন্ট সংস্করণ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে চিকিৎসা বিজ্ঞানের জটিল সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে মার্কিন প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক চুপিসারে একটি নতুন গবেষণাগার বা ‘ওয়েট ল্যাব’ চালু করেছে। সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়াতে স্থাপিত এই ল্যাবে প্রতিষ্ঠানটি জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করবে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুজন ব্যক্তি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অ্যানথ্রপিকের লাইফ সায়েন্সেস বিভাগের প্রধান এরিক কাউডেরার-আব্রামস গত মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই ল্যাব প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, তাদের লক্ষ্য হলো এমন সব রোগের নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি বের করা, যা সাধারণত প্রচলিত ওষুধশিল্পের নজর এড়িয়ে যায় বা অবহেলিত থাকে। এরিক বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস জীববিজ্ঞানের গবেষণায় কোনো কিছুর চূড়ান্ত ফলাফল যাচাইয়ের জন্য বাস্তব গবেষণাগারের প্রয়োজন এখনো অনস্বীকার্য এবং আগামী কিছুদিন এই বাস্তবতা বজায় থাকবে। আমরা বায়োটেক প্রতিষ্ঠানের আদলেই কাজ করছি, যেখানে কাজের একাংশ নিজস্ব ল্যাবে এবং বাকিটা বাইরের অংশীদারদের সাথে যৌথভাবে সম্পন্ন করা হয়।’
প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র পরে বিষয়টি স্পষ্ট করে জানান যে, এই ল্যাবটি কেবল ওষুধ আবিষ্কারের জন্য তৈরি করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট এক সূত্রের মতে, এটি অ্যানথ্রপিকের দীর্ঘমেয়াদী উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। এআই প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার ও জনকল্যাণে নিজেদের প্রতিশ্রুতি প্রমাণ করতেই তারা এই উদ্যোগ নিয়েছে। কর্মসংস্থান বা অস্তিত্বের হুমকির মতো উদ্বেগগুলোর বিপরীতে এআই যে মানুষের উপকারে আসতে পারে, তা তারা হাতে-কলমে দেখাতে চায়।
অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডারিও আমোডেইয়ের জন্য এই উদ্যোগটি ব্যক্তিগত আবেগের সঙ্গেও জড়িত। তিনি সম্প্রতি এক নিবন্ধে জানিয়েছেন, তার বাবার মৃত্যুর কয়েক বছর পরই সেই নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসাপদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছিল। এই অভিজ্ঞতাই হয়তো জীবনবিজ্ঞানে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। কাউডেরার-আব্রামস বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য হলো বিশ্বের কল্যাণে শক্তিশালী এআই গড়ে তোলা। জীবনবিজ্ঞানেই এর বড় সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে।’
প্রযুক্তিটির অন্যতম প্রয়োগ হতে পারে ‘বাইস্পেসিফিক’ ও ‘ট্রাইস্পেসিফিক’ অ্যান্টিবডি আবিষ্কারের গতি বাড়ানো। এগুলি এমন জটিল অণু, যা একই সঙ্গে একাধিক কোষ বা প্রোটিনকে নিশানা করতে সক্ষম। যদিও অ্যানথ্রপিক ঠিক কোন রোগগুলো নিয়ে কাজ করছে বা গবেষণার বর্তমান অবস্থা কী, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে ওষুধ উদ্ভাবন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ও নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জের কারণে যেকোনো গবেষণার সাফল্য অনিশ্চিত।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান গুগলের ‘আইসোমরফিক ল্যাবস’ বছরের পর বছর কাজ করার পরও এখনো মানবদেহে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। তারা তাদের লক্ষ্যমাত্রা পিছিয়ে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ নির্ধারণ করেছে। গবেষণাগারে অটোমেশন বাড়াতে অ্যানথ্রপিক গত আগস্ট মাসে ‘মডেল হার্ডওয়্যার স্ট্যান্ডার্ড’ চালু করেছে, যা সরাসরি এআই দিয়ে যন্ত্রপাতি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ করে দিচ্ছে। তবে বর্তমানে প্রচলিত বা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ‘পাই-ল্যাব-রোবট’ ধরনের উদ্যোগের সাথে অ্যানথ্রপিকের কোনো সংযোগ নেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের জীববিদ্যাবিষয়ক গবেষণা এখন আর কেবল ‘ইন সিলিকো’ বা কম্পিউটারে মূল্যায়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু বলতে রাজি হননি তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি বলেন, অ্যানথ্রপিকের এক বিশাল উচ্চাকাঙ্ক্ষার পথে এটি একটি ছোট পদক্ষেপমাত্র। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য এমন সব রোগ নিরাময়ে কাজ করা, যা প্রচলিত ওষুধশিল্প বরাবরই উপেক্ষা করে আসছে। চাকরির আরও তথ্য: একই সঙ্গে মানুষের চাকরি কেড়ে নেওয়া কিংবা মানুষের অস্তিত্বের ওপর হুমকি তৈরি করার কারণে কর্মীরা ও সাধারণ মানুষ যাতে এআইয়ের প্রয়োজনীয়তা বা উপকারের ওপর থেকে আস্থা না হারিয়ে ফেলে, তার আগেই কাজটি করে দেখাতে চায় অ্যানথ্রপিক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কারণ, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার প্রমাণ দিতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বেশির ভাগ ওষুধই ব্যর্থ হয়ে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা কাউডেরার-আব্রামসের বক্তব্যেও একই মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেছে।
সূত্র: প্রথম আলো



















