আন্তর্জাতিক

এক দশকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রায় দ্বিগুণ

  প্রতিনিধি 18 September 2026 , 2:21:59 প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স গত এক দশকে অভাবনীয় গতিতে বেড়েছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (আইএফএডি) জানিয়েছে, ২০১৬ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে এই দেশগুলোতে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৯৪ শতাংশ বেড়ে মোট ৭২৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে এই দেশগুলো থেকে অভিবাসীর সংখ্যা বেড়েছে ২৮ শতাংশ, যা ইঙ্গিত দেয় যে প্রবাসীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি হারে দেশে অর্থ পাঠাচ্ছেন।

বর্তমান বিশ্বে প্রায় ২২ কোটি প্রবাসী তাদের প্রায় ১১০ কোটি স্বজনকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছেন। সাধারণত একজন প্রবাসী প্রতিবার ৩০০ থেকে ৪০০ ডলার করে বছরে ৯ থেকে ১০ বার অর্থ দেশে পাঠিয়ে থাকেন। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, এই রেমিট্যান্সের পরিমাণ ওই দেশগুলোর প্রাপ্ত মোট সরকারি উন্নয়ন সহায়তার চার গুণেরও বেশি এবং তা সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণকেও ছাড়িয়ে গেছে।

পরিবারের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে রেমিট্যান্স অপরিহার্য ভূমিকা রাখছে। প্রাপ্ত অর্থের প্রায় ৭৫ শতাংশ খাবার, বাসস্থান ও ইউটিলিটি বিলের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণে খরচ হয়। অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ অর্থ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, সঞ্চয় ও ব্যবসায়িক কাজে বিনিয়োগ করা হয়। শুধু গ্রামীণ অর্থনীতির ক্ষেত্রেই ২০২৫ সালে প্রায় ২৩৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পৌঁছেছে, যা কৃষি ও স্থানীয় খাদ্যব্যবস্থায় বড় ধরনের জোগান দিচ্ছে।

আঞ্চলিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মোট রেমিট্যান্স প্রাপ্তিতে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল তালিকার শীর্ষে রয়েছে। ২০২৫ সালে এই অঞ্চলে ৩৮৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা বিশ্বের মোট রেমিট্যান্সের ৫৩ শতাংশ। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সবচেয়ে দ্রুত; গত দশকে সেখানে রেমিট্যান্স ১৩২ শতাংশ বেড়ে ১৬৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া আফ্রিকার দেশগুলো পেয়েছে ১২৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, যা এক দশকে ৮৬ শতাংশ বেশি। এক্ষেত্রে নাইজেরিয়াকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে মিসর।

নির্দিষ্ট কিছু দেশের অর্থনীতির জন্য রেমিট্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালে হন্ডুরাসের জিডিপির প্রায় ৩০ শতাংশই ছিল রেমিট্যান্স। এছাড়া এল সালভাদরে ২৮ শতাংশ ও নিকারাগুয়ায় ২৭ শতাংশ রেমিট্যান্সনির্ভর। আইএফএডির গবেষণায় উঠে এসেছে, গুয়াতেমালার মত দেশে ফিরে আসা অভিবাসীদের ৬১ শতাংশই পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী ছিলেন। ফলে কোনো কারণে প্রবাসীদের দেশে ফিরতে হলে সংশ্লিষ্ট পরিবারের আয়ে ব্যাপক ঝুঁকি তৈরি হয়।

আইএফএডির ফাইন্যান্সিং ফ্যাসিলিটি ফর রেমিট্যান্সের ব্যবস্থাপক পেদ্রো দে ভাসকনসেলোস সতর্ক করে বলেছেন, রেমিট্যান্স অপরিহার্য হলেও এটি সরকারি বিনিয়োগ, সামাজিক সুরক্ষা কিংবা জলবায়ু অর্থায়নের বিকল্প হতে পারে না। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কঠোর অভিবাসন নীতি থাকলেও রেমিট্যান্স প্রবাহ এখনও স্থিতিশীল রয়েছে, কারণ সংকটের সময়েও প্রবাসীরা তাদের পরিবারের প্রয়োজনে অর্থ পাঠানো চালিয়ে যান।

রেমিট্যান্স পাঠানোর পদ্ধতিতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও এখনো বড় বাধা রয়ে গেছে এর খরচ। ২০২৫ সালে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে ডিজিটাল মাধ্যমের গড় খরচ ছিল ৪ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে অ-ডিজিটাল সেবায় এই খরচ ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটালভাবে সম্পন্ন করা যায় এমন সেবার হার বর্তমানে মাত্র ৩৫ শতাংশ। এ কারণে লেনদেনে স্বচ্ছতা আনা এবং খরচ আরও কমানোর ওপর জোর দিচ্ছে আইএফএডি। সংস্থাটি প্রবাসীদের পরিবারের জন্য সঞ্চয়, বিমা ও বিনিয়োগের সুযোগ প্রসারেরও পরামর্শ দিয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: এর একটি অংশ কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থায়ও বিনিয়োগ করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীলতার ক্ষেত্রে মধ্য আমেরিকার কয়েকটি দেশ উল্লেখযোগ্য। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২৫ সালে হন্ডুরাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩০ শতাংশের সমান ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে কোনো প্রবাসী বাধ্য হয়ে দেশে ফিরলে তাঁর পরিবারের আয় হঠাৎ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে প্রবাসীদের ওপর নির্ভরশীল পরিবার ও অর্থনীতিগুলো বিভিন্ন ঝুঁকির মধ্যেও রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দে ভাসকনসেলোসের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্সে বড় ধরনের সামগ্রিক পতন দেখা যায়নি।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content