শিক্ষা

প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষকের যোগদান ও পদায়নে মিলল সবুজ

  প্রতিনিধি 18 September 2026 , 5:32:45 প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন নিয়োগ পাওয়া ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষকের যোগদান এবং পদায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই আদেশের ফলে আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে শিক্ষকদের যোগদান সম্পন্ন হওয়ার পথ সুগম হলো। গত ১৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত নথিতে স্বাক্ষর করেছেন। মন্ত্রণালয় থেকে অধিদপ্তরে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়গুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাগিদ দেওয়া হবে। অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকেই শিক্ষকদের যোগদান কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

যোগদানের পর শিক্ষকদের পদায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ জানিয়েছেন, নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যোগদানের পর সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু করতে দেওয়া হবে না। এর পরিবর্তে তাদের দুই মাসের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে। এই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পরই কেবল তারা স্কুলে ক্লাস নেওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রশিক্ষণের মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় কাউকে বাদ দেওয়া হবে না বলেও মন্ত্রণালয় থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার মধ্য দিয়ে এসেছে। গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য তিন জেলা ব্যতীত) সহকারী শিক্ষক পদে এমসিকিউ পদ্ধতিতে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন মৌখিক পরীক্ষার মুখোমুখি হন। পরবর্তীতে ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়, যেখানে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

সরকার পরিবর্তনের পর এই নিয়োগ পরীক্ষা ও প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে এবং খোদ মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন অনিয়ম ও তড়িঘড়ি করে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেছিলেন। তবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় নমনীয় অবস্থানে আসে। শুরুতে প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়টি কঠোরভাবে দেখলেও, বর্তমানে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে প্রশিক্ষণকে চাকরির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই দেখছে কর্তৃপক্ষ।

প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরির দায়িত্বে থাকা নেপ মহাপরিচালক জানিয়েছেন, প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ হওয়া চাকরির জন্য জরুরি হলেও, এতে পাস করতে না পারলেই কারও নিয়োগ বাতিল হবে এমন কঠোর সিদ্ধান্ত এখনো নেই। সব মিলিয়ে, ১ অক্টোবরের মধ্যে শিক্ষকদের যোগদান ও পদায়ন সম্পন্ন করার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যেই তাদের যোগদান করানোর পথে আর কোনো বাধা থাকলো না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘১৪ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষকদের যোগদানপত্র স্ব স্ব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানোর বিষয়টির প্রশাসনিক আদেশ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার আগে তাদের ক্লাসে পাঠানো হবে না, এটা উচিতও হবে না। চাকরির আরও তথ্য: অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষকের নিয়োগ পরীক্ষা কিছুটা তড়িঘড়ি নেওয়া হয়।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content