প্রতিনিধি 18 September 2026 , 2:55:37 প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল চলতি বছরের নভেম্বর মাস থেকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরু করার। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, এ বছর ইউপি নির্বাচনের মতো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি তাদের নেই। নির্বাচন আয়োজনের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নিতে কত সময় প্রয়োজন, তা জানাতেও অন্তত এক মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের সম্মেলনকক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা আড়াইটা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এই সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, শিক্ষাসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সরকারের পক্ষ থেকে সচিবেরা বিদ্যমান পরিস্থিতির সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে জানিয়েছেন যে, চলতি বছরের মধ্যে ইউপি নির্বাচন করা সম্ভব নয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্বাচনী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, নির্বাচনের জন্য আগে সময় বের করা জরুরি। এছাড়া এসএসসি পরীক্ষা শেষে ৬ জুন থেকে এইচএসসি শুরুর আগে কিছুটা সময় পাওয়া সম্ভব হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের পূর্বঘোষিত সম্ভাব্য তফসিল অনুযায়ী, ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপ, ১৩ ডিসেম্বর দ্বিতীয় ধাপ, ৩০ ডিসেম্বর তৃতীয় ধাপ, আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি চতুর্থ ধাপ, ৪ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম ধাপ, ২২ এপ্রিল ষষ্ঠ ধাপ এবং ২৭ মে সপ্তম ও শেষ ধাপের ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা ছিল। তবে এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে সব আয়োজন সম্পন্ন করা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, কমিশনের প্রাথমিক পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে সরকারি কর্মকর্তাদের মতামত নেওয়া হয়েছে এবং এ নিয়ে কমিশন পুনরায় বৈঠক করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অন্যান্য নির্বাচনের ক্ষেত্রেও আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাদের মতে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের অপতৎপরতা কঠোর নজরদারি ও ধরপাকড় সত্ত্বেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন করে ধরপাকড় অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তৌহিদুল হক এ বিষয়ে জানান, রাজনৈতিক কারণে পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করা সমীচীন নয়, কারণ পুলিশ বাহিনী এখনও পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এই মুহূর্তে অতিরিক্ত চাপ ভালো ফল বয়ে আনবে না বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আজকের পত্রিকার শিরোনাম – ইউনিয়ন পরিষদ ভোট এ বছর সম্ভব নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নভেম্বর – ডিসেম্বরে পরীক্ষা থাকায় মাঝে সময় কম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া গেলেও ফেব্রুয়ারির শুরুতে রোজা এবং এরপর এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইসি গত রবি ও সোমবার অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচনে ভোট গ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ জানায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে ইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল আন্তমন্ত্রণালয় সভায় ইউপি নির্বাচনের সময়সীমা চূড়ান্ত করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উল্লেখ্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে গত বুধবার থেকে সারা দেশে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ শুরু করেছে পুলিশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শিক্ষাসচিব জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্যার প্রভাব এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।
সূত্র: মানবজমিন



















