জাতীয়

খুব দ্রুতই লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি হবে: তথ্য উপদেষ্টা

  প্রতিনিধি 1 September 2026 , 7:09:04 প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে চলমান লোডশেডিংয়ের সমস্যা খুব দ্রুতই কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের যান্ত্রিক ত্রুটিসহ বিভিন্ন কারণে যে লোডশেডিং হচ্ছে, তা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে সরকার কাজ করছে।

বিদ্যুৎ সংকটের বোঝা শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে সুষমভাবে ভাগ করে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, আগে ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গ্রামাঞ্চলে বেশি লোডশেডিং দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমান সরকার এই বৈষম্য দূর করে লোডশেডিংয়ের বোঝা সবার মধ্যে সমানভাবে বণ্টনের নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি আরও জানান, বড় শহরগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি থাকায় সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা বেশি থাকে, তবে এখন থেকে লোডশেডিংয়ের কষ্ট সবাই ভাগ করে নেবে।

জাহেদ উর রহমান জানান, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘আনইন্টারাপ্টেড বিদ্যুৎ’ সরবরাহের যে দাবি করা হয়েছিল, তার প্রকৃত চিত্র আগামী সপ্তাহে তথ্য-উপাত্তসহ প্রকাশ করা হবে। তার দাবি, ওই সময় লোডশেডিংয়ের বড় অংশ গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা থেকে বর্তমান সরকার সরে এসেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণ এই পরিস্থিতি বুঝতে পারবে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই লোডশেডিংয়ের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, জ্বালানি ঘাটতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ, সঞ্চালন গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং চাহিদা বৃদ্ধির ফলে এই সংকট তৈরি হয়েছে। গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে, যা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় বেশি। বর্তমানে ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় লোডশেডিং সমন্বয় করে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ডেনমার্কের সহযোগিতায় লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর তীরে এই প্রকল্পের গ্রাউন্ডব্রেকিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। পিপিপি মডেলে বাস্তবায়িত এই প্রকল্প চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে নতুন গতি আনবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দেশে সার সংকট নেই বলে আবারও জোর দিয়ে দাবি করেছেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, সারের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে এবং বিতরণ পর্যায়ে দু-একটি স্থানে সাময়িক সমস্যা হয়েছিল যা ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে। বর্তমানে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি মিলিয়ে মোট ১২ দশমিক ৮৬১ লাখ মেট্রিক টন সার মজুত আছে, যা গত বছরের একই সময়ের ১২ লাখ মেট্রিক টনের চেয়ে বেশি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘মজুতের সংকট না, বিতরণ পর্যায়ে দুই-একটা জায়গায় একটু সমস্যা হয়েছিল, সেটা আশা করি ঠিক হয়ে যাবে।’

ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার চলাচল ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, ই-রিকশার কারণে ঢাকায় বিশৃঙ্খলা ও সমস্যা দেখা দিয়েছে, যা নিরসনে গত ২৫ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগে অংশীজনদের নিয়ে সভা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নেতৃত্বে এই নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে, যেখানে ই-রিকশার যান্ত্রিক বৈশিষ্ট্য, চালকদের লাইসেন্সিং, নিবন্ধন এবং চলাচলের এলাকা নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, এটি একটি বাস্তব সমস্যা এবং সরকার একে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: লোডশেডিং নিয়ে এটুকু বলি, জ্বালানি নিয়ে প্রচুর কথাবার্তা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আশা করছি যে পরিমাণ লোডশেডিং আছে, সেটা বেশ খানিকটা কমে আসবে উইদিন আ ভেরি শর্ট পিরিয়ড। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ঢাকায় বসবাসকারীরা সাম্প্রতিক সময়ে এমন লোডশেডিং দেখছেন, যা আগে তুলনামূলকভাবে কম ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখবেন, আশা করি আগামী সপ্তাহে আপনাদের আমি সেই ডেটাটাও দেব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাশ্রয় করা বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর ফলে ঢাকার বাইরে শিল্প-কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহকশ্রেণিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content