প্রতিনিধি 10 September 2026 , 12:43:03 প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যত দ্রুত সম্ভব ভারত সফরে যাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে এই সফরের পর দেশে ফিরে জনগণের সামনে উপস্থাপনের মতো সুনির্দিষ্ট সাফল্য ও অর্জন কী থাকবে, তা নিয়ে তিনি বেশ সচেতন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক কূটনৈতিক কর্মকর্তা দ্য হিন্দুকে জানিয়েছেন, ভারতের আমন্ত্রণে বহুপক্ষীয় ব্রিকস সম্মেলনে অংশ না নিলেও, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রতিবেশী ভারতকে এড়িয়ে চলার কোনো ইচ্ছা বাংলাদেশের নেই।

আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বরের শুরুর দিকে দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর আওতায় তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হতে পারে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন। ডিসেম্বরের শেষে চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, তাই এটি দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি। কূটনৈতিক সূত্র মতে, চুক্তি নবায়ন বিলম্বিত করা হলে তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভারতের জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর সংসদ সদস্য সঞ্জয় ঝার মতো নেতাদের বিরোধিতার প্রেক্ষাপটে এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার প্রথম মেয়াদে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিটি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির শাসনামলেও কার্যকর ছিল, যা দ্বিপক্ষীয় কূটনীতির একটি সফল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
সফরের প্রস্তুতির বিষয়ে ওই কর্মকর্তা জানান, ভারত ও বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে নিবিড় আলোচনার মাধ্যমে এজেন্ডা চূড়ান্ত করা প্রয়োজন। আলোচনার সম্ভাব্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু করা, বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, স্থলবন্দরগুলোর ব্যবহার এবং পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন। এছাড়া জ্বালানি সংকটে থাকা বাংলাদেশের জন্য ভারত ইতিবাচক সহায়তা দিলে তা আস্থার জায়গা তৈরি করবে। বাংলাদেশ বাণিজ্যিক ও কনস্যুলার বিষয়গুলোকে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের মতো রাজনৈতিক ইস্যু থেকে আলাদাভাবে দেখার নীতি গ্রহণ করেছে।
তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে ভারতের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের সংলাপের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। তবে সফরের এজেন্ডা নির্ধারণে আমলাতান্ত্রিক পর্যায়ে আরও আলোচনার অবকাশ রয়েছে। বাংলাদেশ এ বিষয়ে মুক্তমনা এবং কিছু ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান শিথিল করতেও প্রস্তুত রয়েছে, যাতে সম্পর্ক পূর্ণ সম্ভাবনায় ফিরে আসে।
শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ভারত যে শেখ হাসিনার দলের সমর্থকদের নিয়ে নতুন করে সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের উদ্যোগ বন্ধ করেছে, তাতে ঢাকা সন্তুষ্ট। এটি ভারতের পক্ষ থেকে একটি গঠনমূলক বার্তা। এর আগে ৫ আগস্ট নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল এবং তার বিরুদ্ধে সহিংস অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছিল। অতীতে ২০১৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবী লর্ড আলেকজান্ডার কার্লাইলকে ভারত প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনাটিও বিএনপির নেতারা স্মরণ করেন। সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর এমনভাবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে যাতে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অর্জন নিয়ে ফিরতে পারে এবং দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাদের দাবি, এই চুক্তি বিহারকে কোনো সুবিধা দেয় না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই সংকট মোকাবিলায় ভারত সহায়তা করতে পারলে সেটি আস্থা তৈরির একটি পদক্ষেপ হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, চুক্তি নবায়নের প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা হবে উল্টো ফলদায়ক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিমসটেক এর প্রধান হিসেবে দিল্লিতে ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মধ্যেই গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব বা এফসিসিতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন।
সূত্র: মানবজমিন



















