প্রতিনিধি 10 September 2026 , 12:12:48 প্রিন্ট সংস্করণ

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী হামলায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নডালিয়া গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী (৫২) নিহত হয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে পাকিস্তানে বসবাস করা রমজান বেলুচিস্তানের পিশিন জেলার জিয়ারাত ক্রস এলাকায় একটি কাস্টম হাউসে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট রাতে পিশিন জেলার ওই কাস্টম হাউসে সন্ত্রাসীরা সমন্বিত হামলা চালায়। এতে পাঁচজন নিরাপত্তাকর্মী ও একজন কাস্টমস কর্মকর্তাসহ মোট ছয়জন নিহত হন। পাল্টা অভিযানে ১০ হামলাকারীও প্রাণ হারায়। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
নিহত রমজান আলীর ছোট বোন মঞ্জুরা বেগম জানান, মৃত্যুর পাঁচ দিন আগে মুঠোফোনে ভাই তাঁকে জানিয়েছিলেন যে, সেখানে কয়েক দিন ধরে ভয়ংকর গোলাগুলি চলছে। তিনি আতঙ্কে ছিলেন এবং দ্রুত দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। দেশে ফিরে ব্যবসা করার জন্য তিনি প্রায় চার লাখ টাকা জমিয়েছিলেন এবং বাড়ির লোকজন তাঁর জন্য একটি দোকানও ভাড়া করে রেখেছিলেন।
পরিবারের তথ্যমতে, ১৯৮৯ সালে ১৮ বছর বয়সে কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই রমজান পাকিস্তানে যান। সেখানে তিনি একাই থাকতেন এবং বিয়ে করেননি। গত সাত-আট বছর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও প্রায় ছয় মাস আগে তিনি পুনরায় যোগাযোগ শুরু করেন। দেশে ফেরার প্রক্রিয়া হিসেবে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরির কাজও চলছিল।
রমজানের ভগ্নিপতি কাইয়ুম চৌধুরী জানান, পাকিস্তানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর লাশ দেশে পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে রমজানের মরদেহ কোয়েটার একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
পাকিস্তানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের একজন কর্মকর্তা জানান, রমজান আলী দেশে ফেরার জন্য আবেদন করেছিলেন এবং তাঁর কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন ছিল। অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়ার পর লাশ দেশে পাঠানোর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সীতাকুণ্ডের স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিএসবি) এসআই হুমায়ুন কবির জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের মাধ্যমে রমজানের ঠিকানা ও পরিবারের তথ্য যাচাই করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফকরুল ইসলাম এবং সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিনুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো সহায়তার আবেদন করা হয়নি।
বর্তমানে কোয়েটায় বসবাসরত অন্যান্য বাংলাদেশিদের মাধ্যমে রমজানের মৃত্যুর খবর জানতে পেরে তাঁর পরিবার শোকস্তব্ধ। আইনি জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় আছেন স্বজনেরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু জীবিত অবস্থায় আর দেশে ফেরা হলো না তাঁর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মঞ্জুরা বেগম বলেন, তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে কোয়েটায় আরও কয়েকজন বাংলাদেশি থাকেন।
সূত্র: প্রথম আলো



















