রাজনীতি

বিএনপি সরকারের আমলের পদোন্নতিতে দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলায় আসিফ মাহমুদের ক্ষোভ

  প্রতিনিধি 9 September 2026 , 8:34:42 প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া অভিযোগ করেছেন, দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে। বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগগুলোর কোনো ভিত্তি নেই এবং পুরো বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ‘অভিযোগ বনাম বাস্তবতা’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে দুদকের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, তিনি যখন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ছিলেন, তখন মন্ত্রণালয়ের পদায়ন ও বদলি সংক্রান্ত বিষয়ে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিশেষ করে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় সংঘটিত একটি পদোন্নতির ঘটনায় তাঁকে জড়ানোর বিষয়টি নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘বিএনপি সরকার ক্ষমতায় বসে থাকা অবস্থায় পদোন্নতি করি, টাকা নিই—এটা কীভাবে সম্ভব?’ তাঁর মতে, অভিযোগ যাচাই-বাছাই করলেই স্পষ্ট হতো যে, ওই সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না এবং পদোন্নতির প্রক্রিয়ার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।

সংবাদ সম্মেলনে একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তিনি অভিযোগগুলোর অসারতা তুলে ধরেন। আসিফ মাহমুদ জানান, একটি অভিযোগে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করে অর্থ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, অথচ প্রকৃতপক্ষে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায়ের ভিত্তিতে ১১২ জনের চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর নিয়োগ পাওয়া এই কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তটি ছিল আদালতের রায় বাস্তবায়নের অংশ, যা তাঁর ব্যক্তিগত কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না।

অন্য একটি অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির বিনিময়ে টাকা নেওয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল দায়ের করা হয়। অথচ পদোন্নতির আদেশ হয়েছিল ১১ মে। তিনি ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। ফলে ওই পদোন্নতির সময় তাঁর কোনো প্রশাসনিক ক্ষমতা ছিল না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রকৃত দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান না করে কেন তাঁকে টার্গেট করা হচ্ছে?

দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্যের সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, প্রথমে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানানো হলেও পরে তা ভুলবশত বলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। কিন্তু এই বক্তব্য প্রকাশ্যে সংশোধন না করায় তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তিনি এই পুরো প্রক্রিয়াকে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ হিসেবে অভিহিত করে জানান, দুদকের মুখপাত্রের বিরুদ্ধে তিনি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর মতে, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর নতুনভাবে গঠিত দুদক রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। আসিফ মাহমুদ শুরুতে শ্রম এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। পরে ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাঁকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং একই বছরের শেষ দিকে এনসিপিতে যোগ দিয়ে মুখপাত্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর তাঁদের চলতি দায়িত্ব বাতিল করে মন্ত্রণালয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অন্য অভিযোগে ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি ও পছন্দের স্থানে পদায়নের বিনিময়ে প্রায় ২ কোটি টাকা নেওয়ার প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সব কটি অভিযোগই ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগের তথ্যসহ ঘটনাপ্রবাহ পর্যালোচনা করলে এর সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার কোনো ভিত্তি পাওয়া যায় না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে অভিযোগগুলোর প্রেক্ষাপট, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতা, দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্যের বাস্তবতা প্রভৃতি বিষয় তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ভয় দেখানো ও হয়রানি করার লক্ষ্যেই অনুসন্ধানটি শুরু করা হয়েছে।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content