প্রতিনিধি 9 September 2026 , 6:01:21 প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় সংসদে জ্বালানি ও গ্যাস সংকট নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যে এক মুহূর্তের জন্য তৈরি হয় বেশ আন্তরিক ও হাস্যরসাত্মক পরিবেশ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ৬৮ বিধির আওতায় ‘তীব্র জ্বালানি ও গ্যাস-সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে বেকারত্ব সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে বিপর্যয় রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ’ শীর্ষক সাধারণ আলোচনা চলছিল। এই আলোচনার এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর সাদাসিধে জীবনযাপন ও মিতব্যয়ী অভ্যাসের প্রসঙ্গ উঠে আসে।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর দুপুরের খাবারের খরচের প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর লাঞ্চের খরচ ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকাটা তাকে বেশ উৎসাহিত করেছে। তিনি রসিকতা করে বলেন, এত কম খরচে খাবার গ্রহণ করা তার পক্ষেও সম্ভব হয় না। শফিকুর রহমানের এই মন্তব্যের পর সংসদ কক্ষে হাসির রোল পড়ে যায়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাত নেড়ে ইশারায় বিরোধীদলীয় নেতাকে খাবারের আমন্ত্রণ জানান। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও আসন থেকে মাইক ছাড়াই তাকে ওই খাবার খাওয়ানোর কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, তিনি একা খেতে চান না, বরং ১৮ কোটি মানুষকে সঙ্গে নিয়েই খেতে আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করেন, যা অন্যদের জন্য অনুসরণীয় হতে পারে। জাঁকজমক ও বিলাসিতা এড়িয়ে চলার এই ইতিবাচক দিকটি তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
তবে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত মিতব্যয়িতার প্রশংসা করলেও তার অনুসারীদের আচরণের কঠোর সমালোচনা করেন শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, দলের কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর মিতব্যয়িতার গুণগান গাইলেও নিজেদের জীবনে এর বিপরীত চিত্রই বেশি দেখা যায়। তারা অনেক ক্ষেত্রে বিলাসী জীবনযাপন করেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। শফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি তাদের আদর্শ বা ‘আইকন’ হয়ে থাকেন, তবে সেই জীবনযাপনের প্রতিফলন অন্যদের মধ্যেও থাকা উচিত।
বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি সবাইকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে আদর্শ হিসেবে মানার দাবি করার আগে সবাইকে তার আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, প্রধানমন্ত্রীও একজন মানুষ এবং ভুলের ঊর্ধ্বে নন। তাই সব বিষয়ে অন্ধভাবে সম্মতি না দিয়ে যৌক্তিক বিষয়গুলো বিবেচনা করার জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা।
সূত্র: গালফ বাংলা



















