প্রতিনিধি 11 September 2026 , 12:47:36 প্রিন্ট সংস্করণ

ইরানের সঙ্গে চলমান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক কৌশল ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার ছয়টি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আগামী বছর থেকে অঞ্চলটিতে মার্কিন সেনা ও সামরিক স্থাপনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে এটি হবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া দুটি বিমানবাহী রণতরি ও ডজনের বেশি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারসহ বিপুল সামরিক সরঞ্জাম সেখানে অবস্থান করছে। তবে ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক কয়েক মাসের সংঘাতে এই ঘাঁটিগুলোর দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একাধিক মার্কিন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।
গত ২৫ বছরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরে আসার নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইয়েমেন ও লিবিয়াসহ বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের কারণে ওয়াশিংটন বারবার সেখানে ফিরে এসেছে। ২০০৩ সালে ইরাক আগ্রাসনের সময় অঞ্চলটিতে মার্কিন সেনার সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার। ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত এই সংখ্যা কখনোই এক লাখের নিচে নামেনি। ২০১১ সালে বারাক ওবামা সেনা কমানোর উদ্যোগ নিলেও পরবর্তীতে আইএসের উত্থানের কারণে আবার সেনা পাঠাতে হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে পেন্টাগনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন সেনা কমিয়ে আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর প্রতিরক্ষার বাড়তি দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষপাতী। আলোচনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা বলছেন, ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতি কতটা রাখা হবে, তা নিয়ে কয়েকটি বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু স্থাপনা পুনর্নির্মাণ না করা এবং স্থায়ী ঘাঁটি ছাড়াই স্পর্শকাতর অভিযান পরিচালনার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইরানের হামলায় বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েতের মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের রিয়াদে সিআইএর একটি ঘাঁটি কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে বলে মার্কিন ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। পেন্টাগনের মতে, এসব স্থাপনা আদৌ পুনর্নির্মাণ করা হবে কি না, তা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সামরিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করবে। এছাড়া সেনাদের নিরাপত্তা বাড়াতে কিছু স্থাপনা ভূগর্ভে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও গুরুত্ব পাচ্ছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, এসব দুর্বলতা আগে থেকেই জানা ছিল, কিন্তু তা মোকাবিলায় যথেষ্ট জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে সংঘাত চলমান থাকায় বিমান হামলা পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানগুলো এখনই ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে মার্কিন নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা সম্প্রতি জানিয়েছেন, বাহরাইনে পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে মার্কিন সেনারা সহসাই ফিরছেন না।
এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ‘ফোর্স পোস্টার রিভিউ’ শুরু না হলেও সামরিক বাহিনী সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্রুত অবস্থান পরিবর্তনের প্রবণতাকেও কর্মকর্তারা বিবেচনায় রাখছেন। এদিকে ইরানের সঙ্গে সংঘাত কত দিনে শেষ হবে তার কোনো স্পষ্ট সময়সীমা নেই। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের নেতৃত্ব অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করতে প্রস্তুত এবং নিকট ভবিষ্যতে তাদের নতি স্বীকার করার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ফলে স্বল্প মেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও সেনারা ইরানের হামলার ঝুঁকিতেই থাকবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৯/১১-এর পর বেড়েছিল উপস্থিতি ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপরও মধ্যপ্রাচ্যে ৩০ হাজার থেকে ৬০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করেছে।
সূত্র: গালফ বাংলা



















