আন্তর্জাতিক

নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন: ভারত-চীন মতপার্থক্য মেটানোর বার্তা নিয়ে আসছেন শি জিনপিং

  প্রতিনিধি 12 September 2026 , 3:50:19 প্রিন্ট সংস্করণ

দক্ষিণ এশিয়া এবং বৈশ্বিক রাজনীতির মঞ্চে ভারত ও চীন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত। তবে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই ভারতের নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে আসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে শনিবার বেইজিং থেকে নয়াদিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন শি। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে তার নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

ভারত ও চীনের সরকার প্রধানদের এই সাক্ষাৎ ঘিরে দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান হয়েছে। বেইজিং জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শি জিনপিংয়ের কৌশলগত দিকনির্দেশনায় দুই দেশ তাদের মধ্যকার মতপার্থক্যগুলো ‘যথাযথভাবে’ সামলাতে কাজ করবে। ভারতের সময় আজ শনিবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে দুই নেতার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। কাজান ও তিয়ানজিনে বৈঠকের পর এটি হবে দুই নেতার টানা তৃতীয়বারের মতো মুখোমুখি বৈঠক।

ভারতে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং শুক্রবার রাতে এক্সে দেয়া এক পোস্টে জানান, দুই দেশের নেতারা কৌশলগত দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে এগিয়ে নিতে আগ্রহী। তিনি আরও বলেন, চীন ও ভারত ভালো প্রতিবেশী এবং পরস্পরের সাফল্যে সহযোগী অংশীদার হিসেবে কাজ করতে চায়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিংও একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি জানান, বেইজিং ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি ও সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় মতপার্থক্যগুলো যথাযথভাবে মোকাবিলায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় ও চীনা সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছিল। সীমান্ত বিরোধের জেরে দীর্ঘ সময় সম্পর্ক শীতল থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কাজান ও তিয়ানজিনে মোদি-শি বৈঠকের পর সেই বরফ গলার প্রক্রিয়া আরও দৃশ্যমান হয়। প্রায় সাত বছর পর শি জিনপিংয়ের এই ভারত সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

শি জিনপিংয়ের সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরোর স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য এবং পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির জেনারেল অফিসের পরিচালক চাই ছি। এছাড়া পলিটব্যুরোর সদস্য ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইও তার সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন। দুই নেতার এই বৈঠক দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content