প্রতিনিধি 22 August 2026 , 3:16:32 প্রিন্ট সংস্করণ

মার্কিন প্রশাসনের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান ম্যারাথন বৈঠকগুলোতে এখনো কোনো সুরাহা হয়নি। স্থানীয় সময় শুক্রবার মধ্যরাত থেকে কানাডার ওপর এই বাড়তি শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। যদি এর আগেই কোনো সমঝোতা না হয়, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতি অনুযায়ী কানাডাকে অতিরিক্ত শুল্কের বোঝা বহন করতে হবে। এমনকি চুক্তি হলেও শুল্ক পুরোপুরি মাফ হওয়ার সম্ভাবনা কম, বরং হার কমিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হওয়া তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র কানাডার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে পারে। এছাড়া কানাডীয় গাড়ির ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। এর বিনিময়ে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালকোহলজাত পণ্যের বাজার উন্মুক্ত করা এবং মার্কিন দুগ্ধ উৎপাদকদের জন্য বাড়তি প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হতে পারে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর কানাডার পাল্টা শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক ল্যাব্লাঁ শুক্রবার সন্ধ্যায় মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আট ঘণ্টা বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে তিনি জানান, আলোচকদের হাতে এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে। ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, চূড়ান্ত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত তারা কাজ চালিয়ে যাবেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে চলছে, তবে চূড়ান্ত কোনো চুক্তির বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারসহ অন্যান্য আলোচকদের সঙ্গে ল্যাব্লাঁর এই বৈঠকটি ছিল সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম দীর্ঘ আলোচনা। শুক্রবার রাতের মধ্যেই চুক্তির বিস্তারিত চূড়ান্ত করতে না পারলে কানাডার বিস্তৃত পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপের বড় ধরনের ঝুঁকি রয়ে গেছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ মুহূর্তের এই প্রচেষ্টায় কোনো কার্যকর সমঝোতা আসে কি না।
সূত্র: মানবজমিন



















