প্রতিনিধি 14 August 2026 , 12:12:49 প্রিন্ট সংস্করণ

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রথমবারের মতো প্রশান্ত মহাসাগরের বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর করেছেন। রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা এই দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণের চারটি দ্বীপ নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে জাপান। পুতিনের এই সফরকে কেন্দ্র করে টোকিও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই সফরকে ‘একেবারেই অগ্রহণযোগ্য’ এবং ‘জাপানি জনগণের অনুভূতিতে আঘাতকারী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বৃহস্পতিবার কুরিল দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণতম দ্বীপ ইতুরুপে (জাপানি নাম এতোেরোফু) পৌঁছান পুতিন। রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, সেখানে তিনি স্থানীয় গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং একটি মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, হাসপাতাল ও স্কুল পরিদর্শন করেন। এর আগে বুধবার তিনি রাশিয়ার সাখালিন দ্বীপ সফর করেন, যেখানে রুশ নৌবাহিনীর সামরিক মহড়া চলছিল। সাখালিনে তিনি পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও করেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে ১৯৪৫ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বীপগুলো দখল করে নেয় এবং তৎকালীন প্রায় ১৭ হাজার জাপানি বাসিন্দাকে সেখান থেকে বিতাড়িত করে। বর্তমানে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপপুঞ্জে প্রায় ২০ হাজার রুশ নাগরিক বসবাস করেন। দ্বীপগুলো খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এবং এর আশপাশের সমুদ্র মৎস্য আহরণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুনাশির, হাবোমাই, শিকোতান ও ইতুরুপ—এই চারটি দ্বীপ নিয়ে মস্কো ও টোকিওর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ বিদ্যমান।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সাংবাদিকদের বলেন, পুতিনের এই সফর উত্তরাঞ্চলীয় দ্বীপগুলো নিয়ে জাপানের দীর্ঘদিনের অবস্থানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগিও এই সফরের কড়া সমালোচনা করে বলেন, বিতর্কিত দ্বীপগুলো ঐতিহাসিকভাবে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জাপানের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই সফরের আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাতে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটিতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জাপান ও রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। জাপান অন্যান্য জি-৭ভুক্ত দেশের সঙ্গে মিলে রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং ইউক্রেনকে নিয়মিত সহায়তা দিয়ে আসছে। তবে পুতিন এই সফরকে উসকানিমূলক মনে করছেন না। বরং তিনি উল্টো অভিযোগ করে বলেন, জাপান রাশিয়াকে প্রধান হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে, কিন্তু বাস্তবে তারা রাশিয়ার ভূখণ্ডের ওপর মালিকানা দাবি করে আসছে।
কুরিল মূলত রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপ থেকে জাপানের উত্তরের প্রধান দ্বীপ হোক্কাইডো পর্যন্ত বিস্তৃত একটি আগ্নেয় দ্বীপপুঞ্জের অংশ। দীর্ঘদিনের এই বিরোধপূর্ণ অঞ্চলে পুতিনের এই সফর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল। জাপান সরকার স্পষ্ট করেছে যে, তারা এই দ্বীপগুলোর ওপর তাদের সার্বভৌমত্বের দাবি থেকে সরে আসবে না এবং রাশিয়ার এই পদক্ষেপ তাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
১৯৪৫ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন এই দ্বীপগুলো দখলের পর সেখানকার প্রায় ১৭ হাজার জাপানি বাসিন্দাকে বিতাড়িত করেছিল।
জাপানে দ্বীপটি এতোেরোফু নামে পরিচিত।
দেশটি এগুলোকে ‘উত্তরাঞ্চলীয় অঞ্চল’ নামে অভিহিত করে।
একই সঙ্গে দেশটি ইউক্রেনকে সহায়তা দিয়েছে দেশটি।
জাপানে এগুলো কুনাশিরি, হাবোমাই, শিকোতান ও এতোেরোফু নামে পরিচিত।
প্রতিকূল আবহাওয়ার এই দ্বীপগুলোতে সোনা ও রুপাসহ বিভিন্ন খনিজের মজুত রয়েছে।
সূত্র: প্রথম আলো



















