প্রতিনিধি 7 August 2026 , 8:48:01 প্রিন্ট সংস্করণ

সেমিকন্ডাক্টর ও সৌর প্যানেল তৈরির অপরিহার্য কাঁচামাল পলিসিলিকনের আমদানিতে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরিত একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এই শুল্কের পাশাপাশি পলিসিলিকন ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের জন্য একটি ন্যূনতম আমদানি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, বিদেশে পলিসিলিকন উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক তদন্তের পরই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের সুপারিশের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি উল্লেখ করেন, গত কয়েক দশকে বিদেশি কোম্পানিগুলোর প্রতিযোগিতার কারণে মার্কিন পলিসিলিকন উৎপাদনকারীরা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সালে বিশ্বে পলিসিলিকন উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারত্ব ছিল ৫০ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে ২ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এই নতুন শুল্কের ফলে হেমলক সেমিকন্ডাক্টর ও ওয়াকার কেমির মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো লাভবান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সুরক্ষাবাদী নীতি দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে। বেইজিংয়ের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করছে। এর জবাবে চীনও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ড্রোন রপ্তানিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং আমদানি করা প্রিন্টার ও ফটোকপি মেশিনের ওপর জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক পর্যালোচনা শুরু করেছে বেইজিং।
বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তি ও চিপশিল্প নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলমান। কম্পিউটার চিপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় একে অপরকে টেক্কা দিতে মরিয়া দেশ দুটি। বিশ্লেষকদের মতে, পলিসিলিকনের ওপর নতুন এই শুল্ক মূলত চীনের প্রযুক্তিগত আধিপত্য সীমিত করার একটি কৌশল। গ্লোবাল টাইমসের সঙ্গে আলাপকালে বিশেষজ্ঞরা একে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের সর্বশেষ নজির হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র চীন থেকে আমদানি করা ড্রোন ও মানবসদৃশ রোবটের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। বর্তমান এই শুল্ক আরোপের বিষয়টি গত বছরের মে মাস থেকে স্থগিত থাকা দুই দেশের বাণিজ্যযুদ্ধকে নতুন করে উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, মার্কিন কর্মসংস্থান রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে এই প্রণোদনা ও শুল্ক নীতি অত্যন্ত জরুরি ছিল।
সামরিক সরঞ্জাম ও ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদনে পলিসিলিকন একটি কৌশলগত উপাদান হওয়ায় এর সরবরাহ নিয়ে ওয়াশিংটন বেশ উদ্বিগ্ন। অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়াতে ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। তবে বেইজিং স্পষ্ট করেছে যে, তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় তারা সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের প্রযুক্তি প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
এতে পলিসিলিকন দিয়ে তৈরি আমদানি করা পণ্যে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
সুরক্ষাবাদী নীতি যুক্তরাষ্ট্রকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে না বলেও মন্তব্য করেছে চীনা দূতাবাস।
মার্কিন কর্মসংস্থান রক্ষা ও অর্থনীতি শক্তিশালী করতে শুল্ক আরোপের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরেই অবস্থান নিয়ে আসছেন তিনি।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিশ্লেষকেরা বলেছেন, নতুন শুল্ক আরোপ চীনের ভূমিকা সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির সরবরাহব্যবস্থায় নেওয়া পদক্ষেপের সর্বশেষ নজির।
সূত্র: প্রথম আলো


















