সারাদেশ

১৬ কেজির ওলকচুসহ ৫২ পদের ফসল নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরে পাবনা-নাটোরের কৃষকরা

  প্রতিনিধি 10 September 2026 , 2:44:42 প্রিন্ট সংস্করণ

পাবনা ও নাটোরের ৩৮ জন কৃষক নিজেদের ক্ষেতে উৎপাদিত ৫২ পদের ফলমূল ও শাকসবজি নিয়ে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের পসরা সাজিয়ে কমিশনারকে শুভেচ্ছা জানান। উপহারের তালিকায় থাকা ৫২ পদের ফসলের মধ্যে ১৬ কেজি ওজনের একটি ওলকচু ছিল অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ, যা কৃষকরা কমিশনারের হাতে তুলে দেন।

প্রদর্শিত ৫২ পদের ফসলের মধ্যে গাজর, টমেটো, আলু, বেগুন, বাদাম, পেঁয়াজ, রসুন, বরবটি, ড্রাগন, পেঁপে, সুগন্ধী চাল, পেয়ারা, কলা, শসা, মুলা, মিষ্টিকুমড়া, ঢ্যাঁড়স, আমড়া, করলা, লাউ ও পাতাকপি উল্লেখযোগ্য। এই আয়োজনে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল বিপণন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের নানা সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, যিনি ‘কুল ময়েজ’ নামে পরিচিত, কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কৃষকদের ঋণ দেওয়ার দায়িত্ব এনজিওদের হাতে দেওয়া উচিত নয়। কারণ, এনজিওরা এক সপ্তাহ পর থেকেই কিস্তি আদায় শুরু করে, অথচ ফসল উৎপাদনে তার চেয়ে বেশি সময় লাগে। এছাড়া উৎপাদিত ফসল পরিবহনে ভটভটি ব্যবহারের সময় পুলিশি হয়রানি ও জরিমানার কথা উল্লেখ করে তিনি কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য আলাদা সার্ভিস লেন অথবা ভটভটি চলাচলের অনুমতির দাবি জানান।

লিচু উৎপাদনে বিপ্লব ঘটানো কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল (যিনি ‘লিচু কিতাব’ নামে পরিচিত) লিচু সংরক্ষণের অভাবের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আহরণের একদিনের মধ্যে বাজারজাত করতে না পারলে লিচু নষ্ট হয়ে যায়। তিনি লিচু থেকে স্পিরিট বা জুস তৈরির মতো প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া সার সংকটের বিষয়ে কৃষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আলী বলেন, ফসলের ধরন ও চাহিদা অনুযায়ী সার বরাদ্দ দিলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তিনি বিষয়টি কৃষি বিভাগের নজরে আনার আহ্বান জানান।

চাষিদের পক্ষ থেকে দেশি রসুনের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং পেঁয়াজের দাম নিয়ে হতাশার কথাও জানানো হয়। একজন চাষি ক্রেতাদের দেশপ্রেমের অভাবকে বিদেশি রসুনের প্রতি আগ্রহের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) শাহানা আখতার জাহান—তিনজনই কৃষিবিদ হওয়ায় তারা কৃষকদের সমস্যাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন। বিভাগীয় কমিশনার বলেন, কৃষি একই সঙ্গে বিজ্ঞান ও শিল্প। তিনি লাল কাঁঠাল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ছোট আকারের কাঁঠালের চাহিদা এখন বেশি, কারণ এগুলো স্মার্ট এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য।

অতিরিক্ত সার ব্যবহারের প্রবণতা নিয়ে সতর্ক করে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, রাসায়নিক সারের চাহিদা অর্ধেক কমিয়ে আনতে জৈব সার ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। তিনি মাটির স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন। এছাড়া কৃষি বিপণন ব্যবস্থার দুর্বলতা স্বীকার করে তিনি তা উন্নয়নের আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে কৃষক সমিতির পাবনা জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. রাসেল, ঈশ্বরদী উপজেলার সহসভাপতি তোহুরুল ইসলাম ও আবু তালিব জোয়ারদারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। কৃষকদের এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের জন্য বিভাগীয় কমিশনার তাদের ধন্যবাদ জানান এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টার আশ্বাস দেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কৃষককে ঋণ দেওয়ার দায়িত্ব বেসরকারি সংস্থাকে (এনজিও) না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান সিদ্দিকুর রহমান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু পুলিশ ধরে জরিমানা করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, দেশপ্রেম থাকলে বাইরের রসুন ক্রেতারা বেশি দাম দিয়ে কিনত না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি কুল চাষের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করে ‘কুল ময়েজ’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁদের তিন চাকার যানবাহন (ভটভটি) ব্যবহার করতে হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাইরের দেশে লিচু থেকে স্পিরিট তৈরি করা হয়, যেটা ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তা ছাড়া প্রক্রিয়াজাত করে জুস তৈরি করতে পারলেও কৃষকের উপকার হয়।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content