আইন-আদালত

লিশ কর্মীকে মারধর মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, এজাহার দায়ের; গ্রেপ্তার ১

  নিজস্ব প্রতিনিধি: 30 August 2026 , 1:29:12 প্রিন্ট সংস্করণ

মাগুরায় এবার খোদ পুলিশ কন্ট্রোল রুমের এক কর্মীই পড়লেন হামলা ও হয়রানির কবলে। দায়িত্ব শেষে মোটরসাইকেলে ফেরার পথে এক পুলিশ সদস্যকে পথরোধ করে গালিগালাজ, মারধরের চেষ্টা এবং মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ দলের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘিরে মাগুরায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনের বিরুদ্ধে মাগুরা সদর থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। এজাহারের পর নাসির উদ্দীন ওরফে নাইমুজ্জামান নয়ন (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি মাগুরা শহরের ভায়না চোপদারপাড়ার মৃত আব্দুল আলীর ছেলে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী কনস্টেবল মোঃ ইমরান হোসাইন মাগুরা পুলিশ কন্ট্রোল রুমে কর্মরত। গত ২৮ আগস্ট বিকেলে দায়িত্ব পালন শেষে মোটরসাইকেলযোগে জুলাই শহীদ স্মৃতি চত্বর থেকে অফিসের দিকে ফিরছিলেন তিনি। পথে ঢাকা রোডের কাঁচাবাজার এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি প্রাইভেটকারে থাকা কয়েকজন তাকে লক্ষ্য করে একের পর এক হর্ন দিতে থাকে। একপর্যায়ে গাড়িটি মোটরসাইকেলের সামনে এসে গতিরোধ করে। গাড়ি থেকে নেমে কয়েকজন ইমরানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে তার মোটরসাইকেলটি জোর করে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। কোনোমতে সেখান থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে অফিসের দিকে রওনা হলেও রেহাই মেলেনি। মাগুরা সদর হাসপাতালের বিপরীত পাশে মাইক্রোস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ফের তার পথরোধ করা হয়। অভিযোগ, সেখানে দলবদ্ধ হয়ে অভিযুক্তরা তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে গালিগালাজ, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে উল্টো আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে অভিযুক্তরা। এজাহারে বলা হয়েছে, তারা সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি ইমরানের মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে বাধা দিলে তাকে টানাহেঁচড়া ও মারধরের চেষ্টা করা হয়। ঘটনার সময় মাগুরা সদর থানায় কর্মরত এএসআই শরিফুল ইসলাম ও এএসআই মাসুদ আলম বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতেও অভিযুক্তরা অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দিতে থাকে। পরে থানার দিবাকালীন জরুরি ডিউটিতে থাকা কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং কনস্টেবল ইমরানকে উদ্ধার করেন। আহত অবস্থায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য মাগুরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় দায়ের করা এজাহারে নাইমুজ্জামান নয়ন, জাকির হোসেন, আনোয়ার রহিম ও হিরক—এই চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি হামলা, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। এ ঘটনায় পেনাল কোডের ১৪৩, ১৮৬, ৩৪১, ৩২৩, ৩৫৩ ও ৫০৬ ধারাসহ সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

এদিকে এজাহার দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে নাসির উদ্দীন ওরফে নাইমুজ্জামান নয়নকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী। গ্রেফতার এর বিযয় টি নিশ্চিত করেছেন মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content