প্রতিনিধি 31 August 2026 , 12:17:31 প্রিন্ট সংস্করণ

হরমুজ প্রণালির কৌশলগত অবস্থানে থাকা ইরানের লারাক দ্বীপে মার্কিন বাহিনীর হামলার প্রতিক্রিয়ায় জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। রোববার দিবাগত রাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) নিশ্চিত করেছে। আইআরজিসির দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে চালানো এই অভিযানে জর্ডানের কিং হোসেন ও আল-আজরাক ঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়েছে। এই হামলাকে তারা ‘আগ্রাসী শক্তির জন্য শাস্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

ইরানি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানে শত্রুপক্ষের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং যুদ্ধবিমান মোতায়েনের স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়েছে, যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করার কোনো অপচেষ্টা সফল হবে না। প্রতিটি আগ্রাসনের বিপরীতে তারা আরও বিধ্বংসী জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এদিকে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।
এর আগে রোববার হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়। সিএনএনের তথ্যমতে, মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, ওই দ্বীপে ইরান রকেটের মাধ্যমে মাইন স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এই কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে মার্কিন বাহিনী দ্বীপটিতে থাকা ইরানের দুটি লঞ্চার বা উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এক মাসেরও বেশি সময় পর ইরানি ভূখণ্ডে এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কোনো সামরিক হামলা।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বজুড়ে নৌ-পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ হওয়ায় এটি দীর্ঘ সময় ধরে আঞ্চলিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক তৎপরতার কেন্দ্রে রয়েছে। লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলায় সেনা ও বেসামরিক লোকজন হতাহত হওয়ার দাবি করে ইরান আগেই প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: প্রথম আলো



















