আইন-আদালত

র‌্যাব বিলুপ্ত করে জাতীয় সংসদে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ আইন পাস

  প্রতিনিধি 10 September 2026 , 3:15:00 প্রিন্ট সংস্করণ

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে একটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের আইন জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিরোধী দলের তীব্র আপত্তি ও সংশোধনী প্রস্তাবের তোয়াক্কা না করেই কণ্ঠভোটে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ পাস করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উত্থাপন করেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। বিলের ওপর বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সাতটি আপত্তি জানানো হয়। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বিলটির বিরোধিতা করে বলেন, র‌্যাব বিলুপ্ত করে নতুন নামে একই ধরনের বাহিনী গঠন করা হলে তা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে না। তিনি এই আইন পাস না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

নতুন এই ইউনিটের হাতে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা থাকলেও র‌্যাবের জনবল, সম্পদ, রেকর্ড ও দায়-দেনা সরাসরি এসআরবিতে হস্তান্তরের বিধান নিয়ে বিরোধী সদস্যরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, কার্যকর স্বাধীন নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে নাম বদলালেও এটি র‌্যাবেরই পুনরাবৃত্তি হতে পারে। বিশেষ করে গুমসহ গুরুতর অপরাধের মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে র‌্যাবের রেকর্ডগুলো নিয়ে তারা শঙ্কা প্রকাশ করেন। এছাড়া অভিযোগ প্রতিকার কমিটির নেতৃত্বে এসআরবির নিজস্ব কর্মকর্তারা থাকায় এর স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

বিলের ৪ ধারা অনুযায়ী, পুলিশ বাহিনীর অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ নামে এই বিশেষায়িত ইউনিট গঠিত হবে। এর সদর দপ্তর হবে ঢাকায় এবং বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা মহাপরিচালক হিসেবে ইউনিটের প্রশাসনিক, আর্থিক ও অপারেশনাল দায়িত্ব পালন করবেন। সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ ও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা, আর্মড পার্সোনেল ও কর্মচারীদের প্রেষণে নিয়োগ দিয়ে এই ইউনিট সাজাবে।

বিলের ১০ ধারায় এসআরবির দায়িত্বের পরিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, বেআইনি অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদক, সাইবার অপরাধ, গুম ও ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, মানবপাচার ও অপহরণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করার ক্ষমতাও ইউনিটটির থাকবে। আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে তারা অপরাধ তদন্ত করতে পারবে।

তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে এসআরবিকে ফৌজদারি কার্যবিধি ও প্রচলিত আইন অনুসরণ করতে হবে। তবে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি বা জব্দকৃত আলামত এসআরবির কাছে রাখা যাবে না; বরং অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এছাড়া শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত সদস্যদের বিরুদ্ধে বরখাস্ত, অপসারণ, বাধ্যতামূলক অবসর বা পদাবনতির মতো শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। তবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছাড়া কোনো সদস্যকে শাস্তি দেয়া যাবে না এবং বিভাগীয় আদেশের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিলের সুযোগ থাকবে।

বিরোধী সদস্যরা বেসামরিক ব্যক্তিদের আটক রাখার সময়সীমা নির্ধারণ, প্রতিটি হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষের তথ্য গেজেটে প্রকাশ এবং হেফাজতের বিস্তারিত রেজিস্টার সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছিলেন। একইসঙ্গে বেআইনি আদেশ মানতে অস্বীকারকারী সদস্যদের সুরক্ষার বিষয়েও তারা স্পষ্ট বিধানের দাবি তুলেছিলেন। এছাড়া অভিযোগ প্রতিকার কমিটিতে অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্ট বিচারপতির নেতৃত্বে স্বাধীন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল।

আইনটি কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে র‌্যাব গঠনসংক্রান্ত বিদ্যমান বিধানগুলো রহিত হয়ে যাবে। তবে র‌্যাবের যাবতীয় জনবল, তহবিল, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, দায়-দেনা ও রেকর্ডপত্র সরাসরি এসআরবিতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। প্রশিক্ষণ ও মানদণ্ড নির্ধারণের বিষয়টি পরবর্তীতে বিধির মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে বলে বিলে উল্লেখ রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ জন্য রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচারক, আইনজীবী, ভুক্তভোগী পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিস্তৃত পরামর্শের প্রস্তাব দেয়া হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই আইন কোনও অবস্থায় পাস করা উচিত না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ক্ষমতা প্রয়োগে স্বচ্ছতা, তদারকি ও কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা: বিলের ১২ ধারায় এসআরবিকে কোনও স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১৩ ধারায় ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী তদন্তকারী কর্মকর্তার ক্ষমতা ও দায়িত্ব ইউনিটের সাব-ইন্সপেক্টর বা তার ঊর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিলের ১৪ ধারায় বলা হয়েছে, ‘গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে বা জব্দকৃত আলামত অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানা কর্তৃপক্ষের হেফাজতে সোপর্দ বা হস্তান্তর করিবেন।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শৃঙ্খলা লঙ্ঘন ও শাস্তি: বিলের ১৭ ধারায় কর্তব্যরত অবস্থায় মাতাল বা নেশাগ্রস্ত থাকা, সহকর্মীকে আঘাত বা অসদাচরণ, অনুমতি ছাড়া দায়িত্বস্থল ত্যাগ, আটক বা গ্রেপ্তার থেকে পালানো এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আইনসংগত আদেশ অমান্য করাকে শৃঙ্খলা লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content