আন্তর্জাতিক

গাড়ির সেলসম্যান থেকে রাজপুত্র: ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল বেলজিয়ামের রাজকীয় স্বীকৃতি

  প্রতিনিধি 24 August 2026 , 5:56:22 প্রিন্ট সংস্করণ

বেলজিয়ামের ক্লেমঁ ভানদেনকার্কহোভের জীবন বদলে গেছে এক ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে। ২০০০ সালের আগস্টে জন্ম নেওয়া এই তরুণ ২৬ বছর বয়স পর্যন্ত জানতেন না যে তিনি রাজপরিবারের রক্ত বহন করছেন। তাঁর মা ওয়েন্ডি ভান ওয়ানটেন, যিনি বেলজিয়ামের একজন গায়িকা হিসেবে পরিচিত, ক্লেমঁর বয়স যখন ১৬ বছর, তখন তাঁকে জানান যে তাঁর বাবা বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপের ছোট ভাই প্রিন্স লরাঁ।

প্রিন্স লরাঁর সঙ্গে ওয়েন্ডির পরিচয় হয়েছিল ৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে প্যারিসের একটি ফ্যাশন শোতে। তবে সেই সম্পর্ক স্থায়ী হয়নি। মায়ের কাছ থেকে সত্য জানার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়। অবশেষে চার বছর আগে ক্লেমঁ তাঁর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং উভয়ের সম্মতিতে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। পরীক্ষার ফলাফলে প্রমাণিত হয় যে ক্লেমঁ প্রিন্স লরাঁরই জৈবিক সন্তান।

ডিএনএ পরীক্ষার পর বাবা ও ছেলের মধ্যে আন্তরিক যোগাযোগ গড়ে ওঠে। প্রায় ছয় মাস আগে এক নিরিবিলি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রিন্স লরাঁ আইনগতভাবে ক্লেমঁকে নিজের সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দেন, যা চলতি সপ্তাহে প্রকাশ্যে আসে। এই স্বীকৃতির ফলে ক্লেমঁ এখন প্রিন্স লরাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে তাঁর সৎভাই-বোনদের—প্রিন্সেস লুইস, প্রিন্স নিকোলাস ও প্রিন্স আয়মেরিক—সমান উত্তরাধিকারী হিসেবে গণ্য হবেন।

তবে রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে ক্লেমঁর ভূমিকা বেশ সীমিত। তিনি কোনো রাজকীয় ভাতা পাবেন না এবং তাঁকে কোনো সরকারি দায়িত্বও পালন করতে হবে না। সবচেয়ে বড় কথা, বেলজিয়ামের সিংহাসনের উত্তরাধিকারের তালিকায় তাঁর কোনো স্থান নেই। এছাড়া বাবার পারিবারিক পদবি ‘সাক্স-কোবুর্গ’ ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও ক্লেমঁ তা গ্রহণ করতে আগ্রহী নন। তিনি তাঁর মায়ের দেওয়া ‘ভানদেনকার্কহোভ’ পদবিই ধরে রাখতে চান, কারণ মায়ের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের প্রতি সম্মান জানানোকে তিনি নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেন।

উল্লেখ্য যে, বেলজিয়ামের রাজপরিবারে পিতৃত্বের এমন ঘটনা এটিই প্রথম নয়। প্রিন্স লরাঁর বাবা এবং বেলজিয়ামের সাবেক রাজা দ্বিতীয় আলবের্তও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২০ সালে স্বীকার করেছিলেন যে তাঁর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সেই সন্তান ডেলফিন বোয়েলও আইনি লড়াই শেষে রাজকন্যার মর্যাদা পান এবং বর্তমানে ডেলফিন দ্য সাক্স-কোবুর্গ নামে পরিচিত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শেষ পর্যন্ত ২৬ বছর বয়সে এসে সেই পরিচয়ের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১৯৯০-এর দশকে প্যারিসের একটি ফ্যাশন শোয়ে পরিচয়ের পর তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল প্রিন্স লরাঁর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ক্লেমঁ জানিয়েছেন, তাঁরা খোলামেলা ও আন্তরিক কথাবার্তা বলেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বেলজিয়ামের একজন গাড়ির সেলসম্যান হয়ে গেলেন রাজপুত্র। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু সেটি নেওয়ার ব্যাপারে এখনো আগ্রহী নন ক্লেমঁ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁর ভাষায়, এই পারিবারিক নাম ত্যাগ করা তাঁর মায়ের এত দিনের অবদানের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার মতো হবে।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content