প্রতিনিধি 28 August 2026 , 4:34:15 প্রিন্ট সংস্করণ

ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান আস্থার সংকট নিরসন এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে একটি যৌথ নিরাপত্তা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব সামনে এনেছে ইরাক। বাগদাদের এই নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বেশ গুরুত্ব বহন করছে।

ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসিম আল-আরাজি জানিয়েছেন, বাগদাদ ইতোমধ্যে তেহরান ও রিয়াদের কাছে এই প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইরাকিয়া টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “দুই দেশের মধ্যকার সমস্যা মূলত আস্থার সংকট।” তবে প্রস্তাবিত এই নিরাপত্তা পরিষদের সুনির্দিষ্ট কাঠামো, কার্যপ্রণালি বা দায়িত্বের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। ইরান কিংবা সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই প্রস্তাবের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইরাকের এই উদ্যোগের পেছনে আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি বড় ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলার অভিযোগ বাগদাদকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলেছে। গত ২৭ জুলাই সৌদি আরব দাবি করেছিল যে, ইরাকের ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা বেশ কয়েকটি ড্রোন তারা শনাক্ত ও ধ্বংস করেছে। রিয়াদের ভাষ্যমতে, এসব ড্রোন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ এবং রাজধানী রিয়াদের তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল।
সৌদি কর্তৃপক্ষ এসব হামলার জন্য ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে এবং প্রয়োজনে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণের কথা জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে তদন্তের নির্দেশ দেন। সৌদি আরবের দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং ড্রোনগুলো সত্যিই ইরাকের মাটি থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরাক সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কাসিম আল-আরাজি জোর দিয়ে বলেন, দেশের সব ধরনের অস্ত্র রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা ইরাকের নিজস্ব কৌশলগত সিদ্ধান্ত। তিনি স্পষ্ট করেন যে, যুদ্ধ ও শান্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র অধিকার কেবল ইরাকি রাষ্ট্রেরই রয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে গত ৩ জুন ইরাকি সেনাবাহিনী একটি বিশেষ কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়, যা বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, ইরাকে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি দেশটির নিরাপত্তা ও রাজনীতির জন্য দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যে কিছু গোষ্ঠী পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) কাঠামোর ভেতরে থাকলেও, অনেক গোষ্ঠী এর বাইরে সক্রিয়। এই প্রেক্ষাপটে বাগদাদের প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে তেহরান ও রিয়াদের মধ্যে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সরাসরি যোগাযোগের একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি হতে পারে।
এর আগেও ইরান ও সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে ইরাক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। এবার যৌথ নিরাপত্তা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব সেই মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে হামলা চালানোর অভিযোগ এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়েও আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে ইরান ও সৌদি আরব এখনও প্রস্তাবটি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া না জানানোয়, এই উদ্যোগটি শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে বা কতদূর এগোবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রবিবার এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার মতে, এই আস্থার ঘাটতি দূর করতে সরাসরি নিরাপত্তা সহযোগিতার একটি কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাম্প্রতিক সময়ে ইরান, সৌদি আরব ও তাদের মিত্রদের ঘিরে বিভিন্ন নিরাপত্তা ও সামরিক ইস্যুতে উদ্বেগ বেড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরই মধ্যে ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইন এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তারা উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ এবং বিরোধগুলো শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কমিটিটিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: গালফ বাংলা


















