প্রতিনিধি 24 August 2026 , 10:01:58 প্রিন্ট সংস্করণ

ন্যাটোর সদস্য হিসেবে তুরস্ক বর্তমানে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক সামরিক অঙ্গনে এক গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সক্রিয় সেনাসদস্যের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৮১ হাজার। এর বাইরে ৩ লাখ ৮০ হাজার রিজার্ভ সেনা এবং প্রায় দেড় লাখ আধাসামরিক সদস্য নিয়ে তুরস্কের মোট সামরিক জনবল ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। স্থলবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দেশটি প্রায় ২ হাজার ২৮৪টি ট্যাংক এবং ৯৮ হাজার বিভিন্ন ধরনের সামরিক যান মোতায়েন রেখেছে। এছাড়া এক হাজারের বেশি স্বচালিত কামান, ৬৩৫টি টানা কামান এবং ২৩৭টি রকেট লঞ্চার তাদের অস্ত্রভাণ্ডারের মূল শক্তি হিসেবে কাজ করছে।

আকাশপথে তুরস্কের সামরিক বহরে ১ হাজার ১০১টি উড়োজাহাজ রয়েছে, যার মধ্যে ২০১টি যুদ্ধবিমান, ৮৪টি পরিবহন বিমান, ৩০১টি প্রশিক্ষণ বিমান এবং ৫০৯টি হেলিকপ্টার অন্তর্ভুক্ত। যদিও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান এখনো তাদের আকাশসীমা রক্ষার প্রধান হাতিয়ার, তবে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি কেএএএন যুদ্ধবিমানের উন্নয়ন কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। বিশেষ করে বায়কার কোম্পানির তৈরি বায়রাকতার টিবি-২ ড্রোন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। এই প্রযুক্তির সফলতায় তুরস্কের প্রতিরক্ষা রপ্তানি ২০২৫ সালে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২১ সালের তুলনায় তিন গুণ বেশি।
নৌ-কৌশলগত দিক থেকে তুরস্ক কৃষ্ণসাগর, এজিয়ান সাগর ও ভূমধ্যসাগরে শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছে। তাদের নৌবহরে ১৭টি ফ্রিগেট, ৯টি করভেট এবং ১৪টি সাবমেরিনসহ মোট ১৯২টি জাহাজ রয়েছে। বসফরাস ও দার্দানেলিস প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ দেশটির কৌশলগত গুরুত্বকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সংযোগস্থলে তুরস্কের সামরিক প্রভাব অত্যন্ত কার্যকর। সিরিয়া, ইরাক, ইরান, জর্জিয়া ও বুলগেরিয়ার সাথে সীমান্ত থাকায় দেশটি বলকান ও ককেশাস অঞ্চলে নিয়মিত নজরদারি ও সামরিক তৎপরতা চালাতে পারে।
প্রতিরক্ষা খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার লক্ষ্যে তুরস্ক বর্তমানে ৪ হাজার ৫০০টির বেশি কোম্পানির মাধ্যমে ১ হাজার ৪০০টিরও বেশি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দুই দশক আগে যেখানে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সামরিক সরঞ্জামের হার ছিল মাত্র ২০ শতাংশ, বর্তমানে তা ৮৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের সামরিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ন্যাটোর যৌথ প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা সহযোগিতার সুবিধা তুরস্কের সক্ষমতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তবে আধুনিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কেবল অস্ত্রের সংখ্যা নয়, বরং প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও বাহিনীর সমন্বিত সক্ষমতাই তুরস্কের সামরিক শক্তির আসল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেশটির বায়কার কোম্পানির তৈরি বায়রাকতার টিবি-২ বিশ্বের পরিচিত সামরিক ড্রোনগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তুরস্ক এখন নিজের অস্ত্র নিজেই তৈরির দিকে এগোচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেশটির প্রতিরক্ষা খাতে বর্তমানে ৪ হাজার ৫০০টির বেশি কোম্পানি কাজ করছে এবং প্রতিরক্ষা প্রকল্পের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তুরস্ক বহু বছর ধরে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে এবং সিরিয়া ও ইরাকের উত্তরাঞ্চলেও সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব অস্ত্রের কতগুলো কার্যকর, আধুনিক যুদ্ধে কতটা সক্ষম এবং বিভিন্ন বাহিনী কতটা সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: গালফ বাংলা


















