প্রতিনিধি 3 August 2026 , 9:58:50 প্রিন্ট সংস্করণ

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা না করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আহ্বান জানিয়েছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। গত শনিবার এক টেলিফোন আলাপে তিনি ট্রাম্পের সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও একটি সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।

জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছেন। যদিও তিনি এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো নির্দেশ দেননি, তবে এমন পদক্ষেপ নিলে পাঁচ মাস ধরে চলমান সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সৌদি আরব এই সম্ভাব্য মার্কিন পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে। অপর একটি সূত্র জানায়, মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পকে উত্তেজনা না বাড়িয়ে সামরিক সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা ওয়াশিংটনে অবস্থিত সৌদি দূতাবাস কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
এর আগে বুধবার সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। তার আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি জানান, সৌদি আরব ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর পক্ষেই রয়েছে। এরপরই ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের বিষয়টি নির্ধারিত হয়। মূলত ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে সৌদি যুবরাজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরাই ছিল এসব বৈঠকের মূল লক্ষ্য।
ইরান ইতিমধ্যে সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তারা ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা জবাব দেবে। এই পরিস্থিতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষকেই উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানাচ্ছে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও পাকিস্তান।
শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, তুরস্ক ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আরাগচি তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে এক বিবৃতিতে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের যেকোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপ কিংবা এতে আঞ্চলিক দেশগুলোর সহযোগিতা থাকলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তার উপযুক্ত জবাব দেবে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে শনিবার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা পৃথকভাবে আরাগচি, হোয়াইট হাউসের দূত স্টিভ উইটকফ এবং ওমানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। যদিও একটি সূত্র জানিয়েছে যে আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে, তবে এই সংকট নিরসনে তা যথেষ্ট কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান মিত্র সৌদি আরব। গত পাঁচ মাসে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন থাকলেও ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে রিয়াদের প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে ইরাকে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব যৌথ হামলা চালালেও রিয়াদ সংঘাত বিস্তারের বিরুদ্ধে বার্তা দিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: প্রথম আলো



















