আন্তর্জাতিক

উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে চার মাসে প্রায় ২২ হাজার পাকিস্তানি বহিষ্কার

  প্রতিনিধি 22 August 2026 , 1:37:09 প্রিন্ট সংস্করণ

চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশ থেকে মোট ২১ হাজার ৯৫১ জন পাকিস্তানি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। অতিরিক্ত সময় অবস্থান, ভিসা লঙ্ঘন, ভিক্ষাবৃত্তি, মাদক সংশ্লিষ্টতা, অবৈধ প্রবেশ, আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান, জাল নথিপত্র এবং নিরাপত্তাজনিত বিভিন্ন অভিযোগে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। গত ২০ আগস্ট পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এমএনএ হামিদ হোসাইনের উত্থাপিত এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে দেশটির মাদক নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রণালয় এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বহিষ্কৃতদের মধ্যে ৪ হাজার ৬২৮ জন পলাতক, ১ হাজার ২৯৪ জন কারাবন্দী এবং ৯৬৮ জন কালো তালিকাভুক্ত ছিলেন। এছাড়া পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলায় ১ হাজার ১৫৫ জনের বিরুদ্ধে বহিষ্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায় ৬৮৯ জন এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রবেশে প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় ৩৪২ জন পাকিস্তানিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর বাইরে ভিক্ষাবৃত্তির দায়ে ৪৭২ জন এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৯ জন পাকিস্তানিকে বহিষ্কার করা হয়।

দেশভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি পাকিস্তানিকে বহিষ্কার করেছে সৌদি আরব, যার সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ জন। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাত ৩ হাজার ৮০৩ জন, ওমান ১ হাজার ৬০৬ জন, বাহরাইন ৫২১ জন, কাতার ৪২৯ জন এবং কুয়েত ৯৭ জন পাকিস্তানিকে ফেরত পাঠিয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ক্যাটাগরিতে আরও ৬ হাজার ৬৬২ জন পাকিস্তানিকে নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে।

পলাতক পাকিস্তানিদের মধ্যে সৌদি আরব থেকে ৩ হাজার ৯২১ জন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৬৩৬ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত সময় অবস্থান বা অবৈধ প্রবেশের অভিযোগে সৌদি আরব ১ হাজার ৯২৪ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ৩৪৭ জন এবং ওমান ২৯৫ জন পাকিস্তানিকে বিতাড়িত করেছে। পাশাপাশি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার, মেয়াদোত্তীর্ণ ইকামা ও পাসপোর্ট, চুরি এবং যুদ্ধকবলিত এলাকায় যাতায়াতের মতো বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার দায়েও অনেককে বহিষ্কারের আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে ৪৭২ জন পাকিস্তানি ভিক্ষুককেও বহিষ্কার করা হয়েছে।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content