প্রতিনিধি 15 August 2026 , 1:55:22 প্রিন্ট সংস্করণ

টানা আড়াইশ’ দিনের বেশি সময় সমুদ্রে অবস্থান করায় মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর হাজার হাজার সেনাসদস্য চরম মানবিক ও মানসিক সংকটের মুখে পড়েছেন। রণতরীটিতে সুপেয় পানির অভাব, খাবারের সংকট, বিকল শৌচাগার এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে নাবিকদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতির খবর প্রকাশ্যে আসার পর মার্কিন আইনপ্রণেতারা পেন্টাগনের কাছে জরুরি জবাবদিহিতা দাবি করেছেন, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক নীতির ওপর নতুন করে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে।

সামরিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে নাবিকদের মধ্যে চরম অবসাদ দেখা দিয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে এক নাবিক জাহাজ থেকে সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনা ঘটলে তাকে হেলিকপ্টারের সাহায্যে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়। এক নাবিকের স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এই মিশনে যোগ দেওয়ার পর থেকে চরম মানসিক চাপে তার স্বজন প্রায় ২৯ কেজি ওজন হারিয়েছেন। দিনরাত ইঞ্জিনের শব্দ ও যুদ্ধবিমানের গর্জন এবং তীরে নামার সুযোগ না থাকায় নাবিকদের মানসিক অবস্থা শোচনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।
কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্রেট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে চিঠি লিখে এই পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি পানির দূষণ, বিকল প্ল্যাম্বিং, নিরাপত্তার অভাব এবং দীর্ঘদিন চিঠি বা পার্সেল না পৌঁছানোর মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। একই সুরে ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেস সদস্য মাইক লেভিন জানান, জাহাজে ছত্রাকযুক্ত গোসলখানা ও কাজ না করা টয়লেটের পাশাপাশি খাবারের চরম সংকটে নাবিকদের কখনো কখনো মাত্র অর্ধকাপ চাল ও দুটি টর্টিলা খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। এছাড়া সাবান বা টুথপেস্টের মতো জরুরি প্রসাধনসামগ্রীরও তীব্র ঘাটতি রয়েছে।
আইনপ্রণেতারা পরিস্থিতি তদারকির জন্য একটি নিরপেক্ষ প্রতিনিধি দলকে সরাসরি জাহাজে পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে গণমাধ্যমের খবরকে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন। পানামায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, প্রতিটি জাহাজ ও নাবিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমুদ্রে প্রতিকূল পরিবেশ সত্ত্বেও সেনাদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযানের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা কিছুটা ব্যাহত হলেও বর্তমানে রসদ ও চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। হোয়াইট হাউজও জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনীকে যেকোনো সামরিক হুমকি মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত উপাদানে সজ্জিত রাখা হয়েছে। এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আব্রাহাম লিংকনের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’ রণতরীটিকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যান্য শাখার তুলনায় নৌবাহিনীর নাবিকদের মধ্যেই উচ্চমাত্রার মানসিক চাপ ও আত্মহত্যার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি।
সূত্র: গালফ বাংলা



















