সারাদেশ

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  প্রতিনিধি 18 August 2026 , 8:45:38 প্রিন্ট সংস্করণ

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর উপযুক্ত সময় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত এক বিশেষ রাজস্ব সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ এখন এনবিআরকে একটি নির্ভরযোগ্য এবং আস্থার প্রতীক হিসেবে দেখতে চায়। দক্ষ ও টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল এই জনআস্থা অর্জন করা সম্ভব। বর্তমান সরকার এনবিআরকে একটি জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

সরকারপ্রধান তার বক্তব্যে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিতাড়িত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট চক্র দেশকে চরমভাবে ঋণনির্ভর ও আমদানি-নির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করে গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল। বর্তমান সরকার বৈদেশিক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার নীতিতে বিশ্বাসী নয়। তাই অভ্যন্তরীণ আয়ের উৎস ও ক্ষেত্রগুলো সম্প্রসারণের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, আজকের এই সম্মেলন কেবল আনুষ্ঠানিক কোনো আয়োজন নয়, বরং এনবিআরের কার্যক্রমের সাফল্যের ওপরই সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন অনেকাংশে নির্ভর করছে।

দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার সময় আমরা যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলাম, তা এনবিআর কর্মকর্তাদের অজানা নয়। দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন ও শোষণের অভিশাপ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডও মুক্ত ছিল না। দলীয় স্বার্থে নীতি-নিয়ম উপেক্ষা করে স্বেচ্ছাচারিতা চালানোয় এনবিআর জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল। সেই হারানো আস্থা পুনরুদ্ধারে কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, আয়ের ক্ষেত্র বাড়াতে সরকার গণমুখী উৎপাদন নীতি গ্রহণ করেছে, যা বিনিয়োগ ও শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।

একজন আধুনিক রাজস্ব কর্মকর্তার গুণাবলি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতি, ব্যবসা, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কে গভীর জ্ঞান না থাকলে কর্মকর্তাদের কর্মক্ষমতা ব্যাহত হয়। কর প্রদান প্রক্রিয়াকে যথাসম্ভব সহজ, দুর্নীতিমুক্ত ও হয়রানিমুক্ত করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, অনলাইনে কর পরিশোধের সুযোগ থাকলে করদাতাদের আর অফিসে আসার প্রয়োজন পড়ে না। করদাতাদের সাথে ভালো আচরণ এবং স্বচ্ছ কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের মনে বিশ্বাস জন্মালে কর আদায় প্রক্রিয়া অনেক বেশি সহজ ও গতিশীল হয়ে উঠবে।

তিনি আরও বলেন, একই করদাতার ওপর বারবার করের বোঝা চাপিয়ে রাজস্ব বৃদ্ধি করা টেকসই কোনো পদ্ধতি নয়। বরং কর প্রদানে সক্ষম ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদেরকে যথাযথ নিয়মে করের আওতায় আনা জরুরি। এ লক্ষ্যে ডিজিটাল ও আধুনিক ডাটা-ভিত্তিক কর প্রশাসন গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। ভ্যাট আধুনিক অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলেও এর জটিলতা যেন ব্যবসা-বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত না করে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কাস্টমস, ভ্যাট ও ট্যাক্স আদায় কেবল এনফোর্সমেন্টের বিষয় নয়, বরং এটি একটি আস্থার সম্পর্ক। পরিশেষে তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে মানুষ এই প্রতিষ্ঠানকে ভয় না পেয়ে বরং বিশ্বাস করতে শেখে।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content