প্রতিনিধি 8 September 2026 , 3:49:56 প্রিন্ট সংস্করণ

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও আগ্রাসন ক্রমশ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর নিয়মিত হামলা এবং তাদের ভূমি থেকে উচ্ছেদের হুমকির কারণে জনজীবনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ফিলিস্তিনে শুরু হয়েছে নতুন শিক্ষাবর্ষ, কিন্তু সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা তাদের স্কুলে পাঠাতে সাহস পাচ্ছেন না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতার সুযোগে পশ্চিমতীর ও গাজাসহ ফিলিস্তিনিদের জীবনে নেমে এসেছে ঘোর অমানিশা।

রামাল্লার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত আল-মুঘাইয়ির গ্রামের পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত নাজুক। গ্রামটি ক্রমেই ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের বিভিন্ন আউটপোস্টে ঘিরে যাচ্ছে। নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনে আল-মুঘাইয়ির বালক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাসাম আল-আসাফ ভোর হওয়ার আগেই স্কুলে উপস্থিত হন। গ্রামের নিরাপত্তাহীনতার কথা মাথায় রেখে তিনি স্কুল চত্বর ঘিরে কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করেছেন এবং ফটকগুলো আরও শক্তিশালী করেছেন। বিবিসি অনলাইনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর আল-মুঘাইয়িরে ছয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বিদ্যালয়টির তিন শিক্ষার্থীও রয়েছে।
নিহতদের একজন ১৪ বছর বয়সী আওস আল-নাসান। গত এপ্রিলে স্কুলের ফটকের বাইরে এক বসতি স্থাপনকারীর গুলিতে সে প্রাণ হারায়। ওই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ইংরেজির শিক্ষক ওয়াহিদ আবু নাঈম জানান, তিনি শ্রেণিকক্ষে থাকা অবস্থায় শিক্ষার্থীরা দৌড়ে এসে জানায় যে স্কুলের দেয়ালের কাছে বসতি স্থাপনকারীরা হামলা চালাচ্ছে। সেই সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিওতে আওসকে গুলি করার দৃশ্য ধরা পড়ে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, রিজার্ভ সেনাসহ বেসামরিক নাগরিকদের বহনকারী একটি গাড়িতে পাথর ছোড়া হয়েছিল, যার জবাবে ওই সেনা গুলি চালান। তবে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ওই সেনাকে দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও গ্রামে প্রবেশের সময় ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে গ্রীষ্মকালেই আরও দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি স্কুল শেষ করা ১৯ বছর বয়সী এক তরুণও প্রাণ হারিয়েছেন। জিহাদ নামে আরেক শিশু ইসরাইলি সেনার গুলিতে নিহত হয়। এই ধারাবাহিক প্রাণহানির ঘটনায় অভিভাবকদের উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে। সুরক্ষার অতিরিক্ত ব্যবস্থা হিসেবে এখন স্কুলের বাইরের সড়কে অ্যাম্বুলেন্স কর্মীরা অবস্থান করছেন এবং হারুন বিশারার মতো অভিভাবকরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে স্কুলের বাইরে পাহারা দিচ্ছেন। হারুন বিশারা জানান, শিশুদের সাহস জোগাতে এবং তাদের পাশে থাকার বার্তা দিতেই তিনি সেখানে উপস্থিত থাকেন।
স্কুলের প্রতিদিনের সমাবেশে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেনা বা বসতি স্থাপনকারীরা স্কুলের কাছে এলে যেন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানো না হয়, চিৎকার না করা হয় এবং তাদের কাছে না যাওয়া হয়। ক্লাসের মধ্যেই জানালা দিয়ে বসতি স্থাপনকারীদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। শিক্ষক ওয়াহিদ আবু নাঈম জানান, আগে বসতি স্থাপনকারীরা পাহাড়ের পেছনে ভেড়া চরালেও এখন তারা ইসরাইলি সেনাদের সহায়তায় সরাসরি গ্রামের কৃষিজমির ভেতর দিয়ে ভেড়া নিয়ে আসছে। এপ্রিলের পর থেকে তাদের এই আগ্রাসী উপস্থিতি আরও বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সূত্র: মানবজমিন



















