সারাদেশ

অনির্দিষ্টকালের জন্য হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ, দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরা

  প্রতিনিধি 30 August 2026 , 5:44:29 প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক জটিলতা ও বাণিজ্যিক বৈষম্যের অভিযোগ তুলে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে অনির্দিষ্টকালের জন্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। ভারতীয় রপ্তানিকারক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিকাশ চন্দ্র মন্ডল স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি বাংলাদেশের বাংলাহিলি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের তুলনায় হিলি বন্দর বিভিন্ন ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এই সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ভারতীয় এক্সপোর্টার্স ও আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায়ীদের কার্যনির্বাহী কমিটির যৌথ সভায় পণ্য পরিবহন বন্ধ রাখার এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাহিলি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিনুর ইসলাম শাহিন মন্ডল জানান, ভারতের ব্যবসায়ীদের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সমস্যার কারণেই তারা এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

আমদানিকারক রেজা আহমেদ বিপুল উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, হঠাৎ করে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাকগুলো সীমান্তের ওপারে আটকা পড়ে থাকায় সেগুলো নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে এলসির মাধ্যমে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে, ফলে ব্যবসায়ীদের লোকসানের ঝুঁকি বাড়ছে। এছাড়া বন্দরের ওপর নির্ভরশীল শত শত শ্রমিকও কর্মহীন হয়ে পড়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা দেশের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এদিকে, পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকলেও হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। ইমিগ্রেশন ওসি মো. জাকারিয়া জানিয়েছেন, বৈধ পাসপোর্টধারী যাত্রীদের পারাপার অব্যাহত থাকবে এবং যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াতের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকায় সীমান্ত এলাকায় এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হওয়া প্রয়োজন, অন্যথায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content