প্রতিনিধি 20 August 2026 , 1:20:10 প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। এই সময়ে মন্ত্রণালয়গুলোর কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে সরকারপ্রধান এখন নতুন করে মন্ত্রিসভা সাজানোর পরিকল্পনা করছেন। কাজের গতিশীলতা বাড়াতে দু-তিনটি মন্ত্রণালয়ে রদবদল এবং নতুন মুখ যুক্ত করার বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২২ আগস্টের মধ্যেই এ বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

সরকার ও বিএনপিদলীয় সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদটি খালি রয়েছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান শারীরিক অসুস্থতার কারণে ১ জুন পদত্যাগ করেন। প্রায় দুই মাস পর এই মন্ত্রণালয়ে নতুন মন্ত্রী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। আলোচনায় আছেন বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ-সদস্য সাচিং প্রু জেরী। এছাড়া গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ-সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তারা দুজনই জানিয়েছেন, বিষয়টি তারা বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছেন, তবে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তনের গুঞ্জন রয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়কে ঘিরে। বর্তমান মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের জন্য বঙ্গভবনে যাওয়ায় এই মন্ত্রণালয়ে পূর্ণ মন্ত্রীর পদটি ফাঁকা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে যে, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এমনটি ঘটলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কে পাবেন, তা নিয়ে ব্যাপক কৌতুহল তৈরি হয়েছে। অনেকের ধারণা, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তর করা হতে পারে। তবে এ্যানি সম্প্রতি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া এসব খবর তাকে বিব্রত করছে।
মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের এই প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি টেকনোক্রেট কোটায় নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী, সংসদ-সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ, ড. আসাদুজ্জামান রিপন এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের নাম আলোচনায় উঠে আসছে। এছাড়া সংসদের হুইপদের মধ্য থেকেও কাউকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
ফ্যাসিবাদী সরকারের শাসনামলে হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েও যারা এতদিন মূল্যায়িত হননি, এমন নেতাদের গুরুত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। বিশেষ করে শামসুজ্জামান দুদু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও হাবিব উন নবী খান সোহেলের মতো নেতাদের মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরপরই মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম ৬ মাস অতিক্রম করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসাবে শপথ নেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসাবেও দায়িত্ব পালন করছেন মীর হেলাল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে তার মন্ত্রণালয়ে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্বে এ মুহূর্তে কেউ নেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন হলে সংসদের পাশাপাশি বিএনপি ও সমমনা দলের দু-একজন নেতা টেকনোক্রেট কোটায় মন্ত্রিসভায় নতুন করে জায়গা পেতে পারেন।
সূত্র: যুগান্তর



















