জাতীয়

প্রেক্ষাপট: এসএসসি ফল পুনর্নিরীক্ষণে রেকর্ড, ১৩ লাখ আবেদন

  প্রতিনিধি 18 August 2026 , 9:16:42 প্রিন্ট সংস্করণ

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন হওয়ায় রেকর্ড ১৩ লাখ শিক্ষার্থী ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছে, যা শিক্ষা বোর্ডগুলোকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। গত ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে এই আবেদন গ্রহণ করা হয় এবং গতকাল রাত ১২টায় আবেদনের সময়সীমা শেষ হয়েছে। আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড সভাপতি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আখতারুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন যে, এবার আবেদনের সংখ্যা ১৩ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

এ বিষয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সোমবার সকালে রাজধানীর বনানীতে শেরাটন হোটেলে ‘কিউএস বাংলাদেশ ফোরাম ২০২৬’ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, মনে হচ্ছে সবাই খাতা পুনর্মূল্যায়ন করাতে চায়। এমনকি জিপিএ-৫ বা গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়ার পরও শিক্ষার্থীরা খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করছে, কারণ উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে নম্বরের গুরুত্ব অপরিসীম। মন্ত্রী আরও জানান, এত বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য একটি কাজ।

এর আগে গত ১০ আগস্ট ফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, কোনো শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বরে ভুল থাকলে বা প্রাপ্য নম্বর না পেলে সংশ্লিষ্ট উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। এজন্য একটি রিভিউ কমিটি গঠন করা হবে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে তার প্রাপ্য নম্বর দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। মন্ত্রী আরও বলেছিলেন, আগে রিভিউয়ের ক্ষেত্রে মূলত ট্যাবুলেশন শিট দেখা হতো, যেখানে খাতা পুনরায় দেখে শিক্ষক যথাযথ নম্বর দিয়েছেন কি না, তা যাচাইয়ের সুযোগ ছিল না। এবার আইনগতভাবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এতদিন পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে মূলত চারটি বিষয় যাচাই করা হতো—সব প্রশ্নের নম্বর দেওয়া হয়েছে কি না, প্রাপ্ত নম্বরের যোগফল ঠিক আছে কি না, খাতার ভেতরের নম্বর ওএমআর শিটে সঠিকভাবে তোলা হয়েছে কি না এবং ওএমআর শিটে বৃত্ত সঠিকভাবে ভরাট করা হয়েছে কি না। এই চারটি পর্যায়ে অসংগতি থাকলে তা সংশোধন করে নতুন ফল প্রকাশ করা হতো, কিন্তু খাতা কখনোই পুনরায় মূল্যায়ন করা হতো না। নতুন পদ্ধতিতে এবার পুরো খাতা তৃতীয় পরীক্ষকের মাধ্যমে পুনরায় যাচাই বা মূল্যায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জটিলতা নিরসনে সরকার নতুন নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে। নতুন নীতিমালায় কোন ধরনের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের আওতায় আসবে, সেই বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। রেকর্ড সংখ্যক এই আবেদনের ফলে শিক্ষা বোর্ডগুলো এখন নতুন এই নীতিমালা কার্যকর করার প্রক্রিয়ায় মনোযোগ দিচ্ছে যাতে শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য নম্বর নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content