প্রতিনিধি 12 September 2026 , 3:20:06 প্রিন্ট সংস্করণ

খাদ্যে ভেজাল ও কৃষিকাজে কীটনাশকের ব্যবহার—বর্তমান সময়ের অত্যন্ত সংবেদনশীল এই দুটি বিষয় নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘দ্য ইন্ডিয়া স্টোরি’। চেতন ডিকের পরিচালনায় এই ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন শ্রেয়স তলপড়ে। সাধারণত কমেডি ঘরানার সিনেমায় দর্শক মাতাতে অভ্যস্ত শ্রেয়সকে এই ছবিতে দেখা গেছে এক গম্ভীর ও আবেগঘন চরিত্রে। মুম্বাইয়ের রেহেজা ক্লাবে সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় তিনি এই ছবির অভিজ্ঞতা ও নিজের জীবনদর্শন তুলে ধরেন।

‘দ্য ইন্ডিয়া স্টোরি’ সিনেমায় কাজ করার পর নিজের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে অনেক বেশি সতর্ক হয়েছেন শ্রেয়স। এখন খাবার সামনে এলেই তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে, এটি কতটা নিরাপদ বা কোথা থেকে এসেছে। অভিনেতা বলেন, ‘খাবার খেতে বসলেই ভাবি, আসলে আমি কী খাচ্ছি। এমনকি দুধ খাওয়া প্রায় বন্ধই করে দিয়েছি, পনিরের ব্যবহারও অনেক কমিয়েছি। বাজারে কোনটি আসল আর কোনটি ভেজাল তা বোঝা কঠিন, তাই নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে খাবার কেনার চেষ্টা করি।’
ছবিটির চিত্রনাট্য হাতে পাওয়ার পর শ্রেয়সের মনে হয়েছিল, এমন বিষয় নিয়ে আরও আগে সিনেমা হওয়া উচিত ছিল। চরিত্রটির জন্য তাঁকে অনেক গবেষণাও করতে হয়েছে। তিনি মনে করেন, অভিনয়শিল্পীদের দায়িত্ব হলো কাজের মাধ্যমে একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়া, তবে সেটি গ্রহণ করা বা সচেতন হওয়ার সিদ্ধান্ত দর্শকের ওপরই নির্ভর করে।
ছবিটিতে এক কন্যাসন্তানের বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন শ্রেয়স। বাস্তব জীবনে নিজেও বাবা হওয়ায় চরিত্রটি তাঁর কাছে অত্যন্ত ব্যক্তিগত হয়ে উঠেছিল। ডাবিংয়ের সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘কয়েকটি দৃশ্যে চোখে জল চলে এসেছিল। আবেগ সামলাতে না পেরে অনেক সময় ডাবিং বন্ধ রেখে পরের দিনের জন্য কাজটি রেখে দিতে হয়েছে।’
কমেডি ঘরানার বাইরে নতুন ধরনের চরিত্রে নিজেকে আবিষ্কার করতে আনন্দ পান শ্রেয়স। তিনি জানান, প্রতিদিন একই ধাঁচের চরিত্রে অভিনয় করলে একঘেয়েমি চলে আসে। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা নিয়েও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘অভিনয়শিল্পী হিসেবে একটি চরিত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হয়, কিন্তু প্রযোজক হিসেবে গল্প নির্বাচন থেকে শুরু করে পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকা যায়। যদি বিষয় ও গল্পের সুন্দর সমন্বয় ঘটে, তবে ভবিষ্যতে এমন সামাজিক ছবি অবশ্যই প্রযোজনা করতে চাই।’
পরিচালনায় ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে শ্রেয়স জানান, আগামী বছর তিনি নতুন করে পরিচালনায় ফিরতে পারেন। নতুন পরিচালক চেতন ডিকের প্রশংসা করে তিনি বলেন, পরিচালকের অভিজ্ঞতার চেয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ও আন্তরিকতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ‘দ্য ইন্ডিয়া স্টোরি’র গল্প ও চরিত্র তাঁকে গভীরভাবে টেনেছিল বলেই তিনি এই কাজে যুক্ত হয়েছেন।
ওটিটি প্ল্যাটফর্মের প্রসারকে নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন শ্রেয়স। তাঁর মতে, প্রেক্ষাগৃহ ও টেলিভিশনের পাশাপাশি মুঠোফোনের মাধ্যমেও এখন দর্শকের কাছে গল্প পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। তবে এই স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বশীলতাও জরুরি। তিনি বলেন, ‘মা-বাবা ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নিয়ে নিজের ছবি দেখতে পছন্দ করি। চাই না, ছবি দেখতে গিয়ে তাঁরা অস্বস্তিতে পড়ুন। বর্তমানে পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে দেখতে পারেন, এমন কাজের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।’
প্রেক্ষাগৃহে দর্শক কমছে—এমন ধারণার সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন শ্রেয়স। তিনি মনে করেন, বড় পর্দায় সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা আলাদা। এছাড়া ভারতের প্রেক্ষাগৃহে মঙ্গলবার কম দামে টিকিট পাওয়ার সুবিধা দর্শক ফেরাতে ভূমিকা রাখছে। সবশেষে শ্রেয়সের প্রত্যাশা, দর্শক শুধু ছবিটি দেখবেন না, বরং নিজেদের জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস নিয়েও নতুন করে ভাববেন।
সূত্র: প্রথম আলো



















