বিনোদন

মেলবোর্নের মঞ্চে রবীন্দ্রনাথের ‘ডিটেকটিভ’: প্রবাসী নাট্যকর্মীদের সফল আয়োজন

  প্রতিনিধি 20 August 2026 , 12:49:51 প্রিন্ট সংস্করণ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী ছোটগল্প ‘ডিটেকটিভ’ নিয়ে মেলবোর্নের ড্যানডেনং ড্রাম থিয়েটারে আয়োজিত হলো এক বিশেষ নাট্য প্রদর্শনী। স্থানীয় নাট্যদল ‘অ্যাক্টোম্যানিয়া’র দশম এই প্রযোজনাটি দেখতে থিয়েটার হল ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। মানুষের অতি কল্পনাপ্রবণতা ও পেশাগত আচ্ছন্নতার মনস্তাত্ত্বিক গল্পটি মঞ্চে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন প্রবাসী শিল্পীরা, যা দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন খাদিজা বীথি, যিনি প্রায় দুই দশক ধরে মেলবোর্নের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সক্রিয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক এই শিক্ষার্থী ছায়ানটেরও প্রাক্তন শিক্ষার্থী। প্রায় পাঁচ মাস ধরে কঠোর মহড়ার মাধ্যমে নাটকটি মঞ্চের উপযোগী করে তোলা হয়েছে। এই প্রযোজনায় ২৫ জন অভিনয়শিল্পী সরাসরি মঞ্চে অংশ নিয়েছেন এবং নেপথ্যে কাজ করেছেন ৪৫ জন কর্মী। মঞ্চসজ্জা, আলোক পরিকল্পনা, পোশাক ও আবহসংগীতের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্থানীয় শিল্পীদের নিপুণ অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

প্রবাসে নাটক মঞ্চস্থ করার চ্যালেঞ্জ ও অভিজ্ঞতার বিষয়ে খাদিজা বীথি বলেন, মেলবোর্নে নাটক করার প্রক্রিয়াটি কেবল একদিনের বিষয় নয়, এর প্রস্তুতি চলে দীর্ঘ সময় ধরে। রবীন্দ্রনাথের গল্পটি সমসাময়িক প্রেক্ষাপটেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এর আগে ২০২৪ সালে খাদিজা বীথির পরিচালনায় হুমায়ূন আহমেদের ‘আজ রবিবার’ নাটকটিও মঞ্চস্থ করেছিল অ্যাক্টোম্যানিয়া, যা দর্শকদের কাছে প্রশংসিত হয়েছিল।

২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করা অ্যাক্টোম্যানিয়ার অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো প্রবাসে নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখা। দলের জ্যেষ্ঠ সদস্য তরুণ ভট্টাচার্য জানান, নতুন প্রজন্মের কলাকুশলীদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার মাধ্যমে তারা নতুন প্রতিভা বিকাশে কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আজ রবিবার’-এর সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবারের ‘ডিটেকটিভ’ নাটকটিও দর্শকদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছে। অভিনয়ের মাধ্যমে মৈত্রী ও দক্ষতা বৃদ্ধিই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য।

নাটকটি দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন দর্শক ও স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা। লেখক দিলরুবা শাহানা বলেন, মেলবোর্নে এমন নিখাদ বাংলা নাটক দেখা সত্যিই বড় পাওয়া। প্রবাসী নতুন প্রজন্মের অভিনয় ছিল অসাধারণ। এছাড়া মেলবোর্নপ্রবাসী অধ্যাপক লুৎফর রহমান খান নাটকটির নির্মাণশৈলী, আবহসংগীত ও শিল্পীদের পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাঁচ মাসের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মঞ্চে আসা এই নাটকটি প্রমাণ করেছে, দেশ থেকে হাজার কিলোমিটার দূরে থেকেও প্রবাসীদের বাংলা নাটকের প্রতি আগ্রহ ও ভালোবাসা বিন্দুমাত্র কমেনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মানুষের অতি কল্পনাপ্রবণতা, পেশাগত আচ্ছন্নতা এবং বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার গল্প উঠে এসেছে নাটকটিতে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর রেশ অনেক আগে থেকে শুরু হয়, পরেও থাকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও আমাদের খুব উৎসাহিত করেছে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নতুনদের পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে আমরা নতুন প্রতিভা তৈরি করতে পারছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমাদের সংস্কৃতি বিদেশের মাটিতেও এভাবে প্রাণবন্ত আছে, এটা ভেবে খুব আনন্দ লাগে।’।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content