আন্তর্জাতিক

নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে ৩৮৯ জনের মৃত্যু, নতুন বন্যার আশঙ্কায় আতঙ্ক

  প্রতিনিধি 28 August 2026 , 2:58:30 প্রিন্ট সংস্করণ

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৮৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত বুধবার সকালে আকস্মিকভাবে নেমে আসা বরফ, পাথর ও কাদার স্রোতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে রাসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার নদীতীরবর্তী জনপদ। এই দুর্যোগে নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ, যার মধ্যে প্রায় ৭০০ জন বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৭৯৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে ৩০ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ সহায়তার প্রস্তাব দিলেও নেপাল সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের নিজস্ব সক্ষমতা রয়েছে। এদিকে, চীনের তিব্বত অঞ্চলেও এই দুর্যোগের প্রভাবে ৫৫৮ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

২০১৫ সালের এপ্রিলে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের পর নেপালে এটিই সবচেয়ে বড় দুর্যোগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্প নয়, বরং হিমালয়ের হিমবাহ ধসের কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, হিমবাহ ধসের সময় যে কম্পন সৃষ্টি হয়েছিল, তা ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে রেকর্ড হয়। এরপর ধসে পড়া বরফ ও পাথর নদীর পানির সঙ্গে মিশে প্রবল ঢল তৈরি করে।

কাঠমান্ডু পোস্টের কারিগরি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে কম্পন অনুভূত হওয়ার ২৮ মিনিট পর ভোতেকোশি নদীতে ঢল নামে। এরপর সকাল ৯টা ১৫ থেকে ৯টা ১৬ মিনিটের মধ্যে রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং ও চিতওয়ান জেলার বাসিন্দাদের সতর্ক করতে ছয় লাখের বেশি এসএমএস পাঠানো হয়। বেলা ১১টা ২৬ মিনিটে মালেখুর ফুরকে পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে এবং ১৭ মিনিটের মাথায় ফুরকে সেতুসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভেসে যায়।

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বলছেন, লাংটাং লিরুং পর্বতের উত্তর ঢাল থেকে বিপুল পরিমাণ বরফ ও পাথর ধসে লহেন্দেখোলা নদীতে পড়ে। এতে নদীর প্রবাহ সাময়িকভাবে আটকে একটি প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয়। পরে সেই বাঁধ ভেঙে পানি ও কাদার স্রোত প্রবল বেগে নিচে নেমে আসে। চীনা ভূতত্ত্ববিদ গুও ঝাওচেং জানান, এই স্রোত প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫০ মিটার বেগে প্রবাহিত হয়েছে, যা মানুষকে আত্মরক্ষার কোনো সুযোগ দেয়নি।

বর্তমানে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গিরং এলাকার উজানে প্রাকৃতিক বাঁধের পেছনে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছে। আগামী তিন দিনে সেখানে আরও ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি জমতে পারে, যা ১ সেপ্টেম্বরের দিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উঁচু পর্বতের বরফ ও পাথরের ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। নিউজিল্যান্ডের বিজ্ঞানী সাইমন কক্সের মতে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বরফ গলার হার বাড়ছে এবং পাহাড়ের ঢাল দুর্বল হয়ে পড়ছে। আইসিআইএমওডির বিশেষজ্ঞ ফারুক আজমের মতে, ভারী তুষার গলা ও ভূকম্পনের সম্মিলিত প্রভাবে এই ধস হতে পারে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, গত তিন দশকে নেপালের হিমবাহের এক-তৃতীয়াংশ গলে গেছে এবং গত দশকে হিমবাহ গলার হার ৬৫ শতাংশ বেড়েছে।

দুর্গত এলাকায় হেলিকপ্টারের মাধ্যমে জরুরি ত্রাণ ও তাঁবু পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালে নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে ভিড় করছেন মানুষ। সেখানে পুলিশ ডেস্কে নিখোঁজদের নাম ও ছবি টানানো হয়েছে। স্বজন হারানো ৬৮ বছর বয়সী কেশব প্রসাদ বারাল জানান, চোখের সামনেই কাদার ঢলে তাঁর স্ত্রী নিখোঁজ হয়েছেন, এখনো তিনি তাঁকে খুঁজে পাওয়ার আশায় আছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সকালের আকাশ ছিল পরিষ্কার, রৌদ্রোজ্জ্বল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্থানীয় বাসিন্দারা দৈনন্দিন কাজে বেরিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কেউ বাজারে, কেউ কর্মস্থলে, কেউবা যাচ্ছিলেন সীমান্ত–পথের দিকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কাঠমান্ডুর সঙ্গে তিব্বতের লাসাকে যুক্ত করা সড়কে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছিলেন পর্যটক ও তীর্থযাত্রীরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কয়েক মিনিটের মধ্যে চিরচেনা দৃশ্য বদলে যায় পুরোপুরি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ প্রকল্প ভাসিয়ে নিয়ে যায় সেই প্রবল ঢল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিলীন হয়ে গেছে গ্রামের পর গ্রাম, ভিডিওতে দেখা গেল নেপালের বন্যার ভয়াবহতা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নেপালে ১১ বছর পর এটাই সবচেয়ে বড় দুর্যোগ।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content