প্রতিনিধি 12 August 2026 , 5:25:39 প্রিন্ট সংস্করণ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে তৈরি হওয়া উত্তেজনার আবহে বাংলাদেশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। এই আলোচনার পরপরই তিনি ভারতে ফিরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তিনি ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও টেকসই ও বহুমুখী করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা চেয়েছেন। বুধবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, টেলিগ্রাফ এবং ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের ঠিক একদিন পরেই দীনেশ ত্রিবেদী দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে জনকেন্দ্রীক ও শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে মোদির পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা কামনা করেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে জানিয়েছে, মঙ্গলবার এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এর আগে সোমবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। ওই বৈঠকে তারেক রহমান শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের আগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতির জন্য একটি উপযুক্ত ও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এর আগে রোববার তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদিকে ‘জনগণের মানুষ’ হিসেবে অভিহিত করে ত্রিবেদী আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, এই দুই নেতার সরাসরি সাক্ষাৎ দুই দেশের অনেক জটিল সমস্যার সমাধান ঘটাতে পারে। তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, তারেক রহমান হৃদয় দিয়ে কথা বলেন এবং জনগণের প্রতি তার দায়বদ্ধতা রয়েছে।
তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর ত্রিবেদী এটিকে ফলপ্রসূ হিসেবে বর্ণনা করে জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কেবল ভৌগোলিক সীমান্তই নয়, বরং অভিন্ন স্বপ্নও বিদ্যমান। তিনি ব্রিকস নেতাদের আউটরিচ সম্মেলনে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণের বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, দুই নেতার সাক্ষাৎ হলে গণতন্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে। তিনি নিজেকে কূটনীতিকের চেয়ে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলে জানান।
টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, দীনেশ ত্রিবেদী নয়া দিল্লি সফরের আগে রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেন। এই কূটনৈতিক তৎপরতা এমন এক সময়ে চলছে যখন গত বুধবার নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার একটি গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার বন্ধের জন্য ঢাকা অনুরোধ জানালেও ভারত তা কার্যকর করেনি, যা নিয়ে বাংলাদেশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার ওই বক্তব্যের সঙ্গে ভারত একমত নয় এবং ওই অনুষ্ঠান আয়োজনে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না।
এদিকে, মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল পাক্ষিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, প্রচলিত আইনি রীতির অধীনে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধটি ভারত যাচাই করে দেখছে। এছাড়া ওসমান হাদী হত্যায় অভিযুক্তদের হস্তান্তরের বিষয়টিও একটি আইনি প্রক্রিয়া বলে তিনি উল্লেখ করেন। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, দীনেশ ত্রিবেদী ও তারেক রহমানের বৈঠকের পর ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।
বাংলাদেশ থেকে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৬ দিন আগে যে বক্তব্য রেখেছেন ভারতে, তাতে ঢাকা ক্ষুব্ধ।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সবাই তাকে (তারেক রহমান) ভীষণ শ্রদ্ধা করি।
তিনি বলেন, আমরা সামনের দিকে তাকিয়ে আছি।
আমি মনে করি যখন এই দুই নেতা একসঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তখন বহু সমস্যার সমাধান হতে পারে।
এখানে দুই নেতার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও নেতৃত্বের ভূমিকাকে সামনে আনা গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ, তারেক রহমান এখনো ভারত সফর করেননি।
সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
টেলিগ্রাফের শিরোনাম- ‘ইন্ডিয়া এনভয় মিটস মোদি আফটার বাংলাদেশ টকস অ্যামিড রিনিউড হাসিনা এক্সট্রাডিশন রো’।
তা সত্ত্বেও তাকে সেটা করতে দিয়েছে ভারত।
ভারত বলেছে, শেখ হাসিনা সেখানে যা বলেছেন তা ভারত অনুমোদন করে না।
ওই অনুষ্ঠানে ঢাকার সরকারের সমালোচনা করেন হাসিনা।
ইন্ডিয়া টুডের শিরোনাম- ‘ইন্ডিয়া সেজ বাংলাদেশজ রিকুয়েস্ট টু এক্সট্রাডিট শেখ হাসিনা ইজ বিং এক্সামিনড’।
সূত্র: মানবজমিন



















