আন্তর্জাতিক

মিশিগানে বিপুল অর্থব্যয় করেও আবদুল আল-সাইয়েদকে আটকাতে পারল না ইসরায়েলপন্থী লবি

  প্রতিনিধি 5 August 2026 , 9:39:12 প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন প্রগতিশীল জনস্বাস্থ্যকর্মী আবদুল আল-সাইয়েদ। এনবিসি নিউজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রায় ৬ কোটি ডলারেরও বেশি নির্বাচনী প্রচারণার ব্যয়কে উপেক্ষা করে তিনি এই ঐতিহাসিক মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন। এই ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ইসরায়েলপন্থী লবিং গ্রুপ ‘আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি’ বা এআইপিএসির জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আবদুল আল-সাইয়েদকে পরাজিত করতে এই লবিং গোষ্ঠীটি সরাসরি মাঠে নেমেছিল। তারা তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মার্কিন কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্সের নির্বাচনী প্রচারণায় ৩ কোটি ডলারের বেশি অর্থ বিনিয়োগ করেছিল। তবে বিপুল এই অর্থব্যয়ও শেষ পর্যন্ত আল-সাইয়েদের বিজয় ঠেকাতে পারেনি। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন। মিশিগানের এই আসনটি সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মিসরীয় বংশোদ্ভূত আবদুল আল-সাইয়েদ যদি নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হতে পারেন, তবে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রথম মুসলিম সিনেটর। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দেওয়া এই দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যের ফলাফল মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের দীর্ঘমেয়াদী নীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আল-সাইয়েদ গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, ইসরায়েলের যুদ্ধে অর্থায়ন বন্ধ করে সেই সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যয় করা উচিত।

নির্বাচনী এই ফলাফলের প্রতিক্রিয়ায় মায়া বেরি আল-জাজিরাকে বলেছেন, মিশিগানের জনগণ এই নোংরা রাজনীতি মুখ বুজে সহ্য করবে না, যা তিনি সারা দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরতে পেরে আনন্দিত। এই জয় প্রগতিশীল রাজনীতির জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ভোটাররা বড় করপোরেট ও লবিং গোষ্ঠীর প্রভাবের চেয়ে প্রার্থীর আদর্শকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

ইসরায়েলপন্থী গোষ্ঠীগুলোর প্রায় ৬ কোটি ডলারেরও (৬০ মিলিয়ন) বেশি নির্বাচনী প্রচারণার খরচকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আল-সাইয়েদ এ ঐতিহাসিক মনোনয়ন লাভ করেছেন।

আবদুল আল-সাইয়েদকে হারাতে এ গোষ্ঠীই মূলত সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিল এবং তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মার্কিন কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্সের পক্ষে ৩ কোটি ডলারের (৩০ মিলিয়ন) বেশি অর্থ ঢেলেছিল।

নির্বাচনে যে কয়টি আসনে সিনেট নিয়ন্ত্রণের জন্য তীব্র লড়াই হবে, তার মধ্যে মিশিগানের এ আসনটিকে অন্যতম ধরা হচ্ছে।

এ আসনের ফলাফলই নির্ধারণ করতে পারে যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content