প্রতিনিধি 10 August 2026 , 11:01:57 প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শোষণ ও শাসনে বাংলাদেশ একটি ঋণ ও আমদানি নির্ভর ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণ’ বিষয়ক জাতীয় সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে রাষ্ট্র যে ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছেছে, তা পুনর্গঠনের এখনই উপযুক্ত সময়। এই যাত্রায় এসডিজি বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এই পরিকল্পনাটি জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে জাতিসংঘের এসডিজি কাঠামোর সঙ্গে সমন্বিত করেছে। সরকার ‘সংস্কার ও উন্নয়নের ৫ স্তম্ভ’ ঘোষণা করেছে, যেখানে দারিদ্র্য বিমোচন, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, জেন্ডার সমতা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং সুশাসনের মতো বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সরকারপ্রধান আরও বলেন, মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল বা এমডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ যেভাবে সফল হয়েছিল, এসডিজি অর্জনেও সরকার একইভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন অব্যাহত রেখেছে। এসডিজি’র মূলমন্ত্র ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’—এর সঙ্গে বর্তমান সরকারের জননীতির গভীর মিল রয়েছে। ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই মূলনীতিকে সামনে রেখে সরকার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপির জননীতি সবসময়ই জনবান্ধব। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯-দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’ এবং বর্তমানের রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার সঙ্গে এমডিজি বা এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রার কোনো বড় ধরনের অমিল নেই। ঐতিহাসিকভাবেই বিএনপির প্রতিটি ভিশন ও মিশন জনগণের কল্যাণে নিবেদিত এবং তা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির জননীতি’র দিকে লক্ষ্য করলেই এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে সকল সময়েই বিএনপির সকল পরিকল্পনা এবং কর্মসূচি জনবান্ধব।
দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রা পথে অবশ্যই এসডিজি’র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অনস্বীকার্য।’
সূত্র: মানবজমিন



















