প্রতিনিধি 8 September 2026 , 2:18:53 প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে সরিয়ে তার স্থলে ডা. শাহরিয়া শায়লা জাহানকে পদায়নের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)। সংগঠনটি অবিলম্বে এই নতুন পদায়ন স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) এনডিএফের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম ও জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন এক যৌথ বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানান। সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক ডা. এ কে এম জিয়াউল হক স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনে ডা. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে ডা. শাহরিয়া শায়লা জাহানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে সাড়ে ছয় কোটি টাকার টেন্ডার দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয়দের আন্দোলনের মুখে গত বছরের ১৬ নভেম্বর তাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছিল।
এনডিএফ নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, যেসব অভিযোগের তদন্ত এখনো শেষ হয়নি এবং ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি, এমন একজন কর্মকর্তাকে রাজধানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালের প্রশাসনিক পদে কীভাবে পদায়ন করা হলো? তারা ডা. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে ওএসডি করার কারণও স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে দুই দফা দাবি পেশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করে ডা. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে স্বপদে বহাল রাখা এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত তার নতুন পদায়ন স্থগিত রাখা। নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি বাস্তবায়ন না হলে চিকিৎসক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে পর্যায়ক্রমে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য, ডা. শাহরিয়া শায়লা জাহান গত বছরের জানুয়ারিতে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে যোগ দেন। সেখানে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেয়। বিশেষ করে ২৬ এপ্রিল এক রোগীর স্বজনদের সঙ্গে মেডিকেল অফিসারের বাগ্বিতণ্ডার জেরে মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডের চিকিৎসাসেবা বন্ধের ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই সময় হাসপাতালে প্রতিটি স্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হতো। এছাড়া তত্ত্বাবধায়কের ঠিকমতো অফিস না করা, রোগীদের প্রতি অনীহা ও উগ্র আচরণের অভিযোগ এনে স্থানীয়রা গত বছরের ১৪ অক্টোবর মানববন্ধনে তার অপসারণের দাবি জানান। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে ওএসডি করা হয়েছিল।
এর বাইরেও ডা. শাহরিয়া শায়লা জাহানের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে যোগদান না করা এবং অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকার মতো প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে, যার জন্য তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই বছরের ১৪ অক্টোবর মানববন্ধনে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, একটি হাসপাতাল তৈরি হয় সর্বসাধারণের চিকিৎসা ও সেবা প্রদানের জন্য। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নেতৃবৃন্দ বলেন, মিটফোর্ড হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক নেতৃত্বে স্বচ্ছতা, যোগ্যতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে সরকারি হাসপাতালে সেবা না পেয়ে অনেক রোগী বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই সময় সংবাদকর্মীরা তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ‘হাসপাতালের সব বিষয়ে সাংবাদিকদের নজর দেওয়ার দরকার নেই’ বলেও মন্তব্য করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে এ নিয়ে স্থানীয়রা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন শুরু করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু বর্তমানে হাসপাতালে প্রবেশ থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরে টাকা দিয়ে ঢুকতে হয়।
সূত্র: আলোকিত বাংলাদেশ



















