প্রতিনিধি 1 September 2026 , 12:47:40 প্রিন্ট সংস্করণ

বেসামরিক সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যৌথ বাহিনী নির্দেশাবলিও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে বিচার বিভাগের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো পরবর্তীতে নির্ধারণ করা হবে। নতুন এই বেতন কাঠামো গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে।

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুমোদন পায়। বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি পরবর্তীতে তথ্য অধিদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কাঠামোর বিস্তারিত তুলে ধরেন।
নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বলা হয়েছে, জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে একটি সচিব কমিটি সুপারিশ তৈরি করে। সেই প্রতিবেদনের পর্যালোচনা শেষে মন্ত্রিসভা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ বেতন কাঠামো নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন কাঠামোতে আগের মতোই ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। বেতন বৃদ্ধির হার ও অনুপাত সম্পর্কে মূল তথ্যগুলো হলো
পুরো বেতন কাঠামোটি একসঙ্গে কার্যকর না করে দুই অর্থবছরে তিন ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুলাই থেকে মূল বেতনের ৪০ শতাংশ, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে ৩০ শতাংশ এবং একই বছরের জুলাই মাসে অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ প্রদান করা হবে। বিভিন্ন ভাতা ও অবসর সুবিধা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। জাতীয় পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ কমানোর লক্ষ্যেই এই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল নেওয়া হয়েছে।
পেনশনভোগীদের জন্য নতুন কাঠামোতে বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। সরকার পর্যায়ক্রমে ২০৩০ সালের মধ্যে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর অংশ হিসেবে বর্তমান কাঠামোয় পেনশনভোগীদের জন্য বর্ধিত হারের বিধান রাখা হয়েছে
নতুন বেতন কাঠামোয় প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা করে প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালু করা হয়েছে। এছাড়া ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগের ব্যয় মেটাতে সব গ্রেডের জন্য মোবাইল ভাতা নিশ্চিত করা হয়েছে, যা আগে শুধু পঞ্চম গ্রেড থেকে ওপরের পর্যায়ের জন্য প্রযোজ্য ছিল।
এই নতুন কাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত সুবিধাভোগীসহ মোট ৩৩ লাখ মানুষ উপকৃত হবেন। সরকার এই খাতে বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় করবে, যার সংস্থান মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোয় রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বাড়তি অর্থের জোগান দিতে রাজস্ব আদায় বাড়ানো অপরিহার্য। গত অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব ঘাটতি ছিল ৮৮ হাজার কোটি টাকা। ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও, বর্তমানে তা ৭ শতাংশের কিছু বেশি। এছাড়া বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি বিনিয়োগ গত ১৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে ২২ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে।
সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান জানান, বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্যে শ্লথগতি বিরাজ করছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে নতুন বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এনবিআর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সরকারি বেতন বৃদ্ধির ফলে বেসরকারি খাতেও বেতনের চাপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে চ্যালেঞ্জিং হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। চাকরির আরও তথ্য: বলা হয়, জাতীয় বেতনকাঠামো সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এখন প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন, আদেশ ও নির্দেশনা জারি করবে। চাকরির আরও তথ্য: ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮—এই দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে দেওয়া হবে বেতন-ভাতা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অবসরভোগীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম থাকবে। চাকরির আরও তথ্য: নির্বাচনী ইশতেহারে সামরিক ও অসামরিক—উভয় ক্ষেত্রে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি রয়েছে বিএনপির।
সূত্র: প্রথম আলো



















