জাতীয়

অবসর ভাতার জন্য আর ঘুরতে হবে না অফিসে, শিক্ষকদের বকেয়া পরিশোধ শুরু

  প্রতিনিধি 15 August 2026 , 9:10:40 প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ভাতার জন্য আর কোনো দপ্তরে ঘুরতে হবে না। শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ চার বছর ধরে আটকে থাকা ৭০ হাজার ১১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকার বকেয়া ভাতার জট উন্মোচন করেন। সরকারের পক্ষ থেকে এককালীন ২ হাজার ৩৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা iBAS+ সফটওয়্যারের মাধ্যমে দেশের ৬৪টি জেলায় শিক্ষকদের নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পাঠানো শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষকদের আশ্বস্ত করে বলেন, এখন থেকে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর হয়রানি ছাড়াই যথাসময়ে অনলাইনে শিক্ষকদের প্রাপ্য টাকা তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। শিক্ষকদের হয়রানির তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দিয়ে জাতিকে গড়ে তোলেন, তাদের প্রাপ্য টাকা তুলতে ঘুষ দিতে হওয়া বা অফিসে ঘুরে ভোগান্তি পোহানো কেবল শিক্ষকদের হয়রানি নয়, বরং এটি জাতি হিসেবে আমাদের দীনতা ও হীনতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি জানান, এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল।

সরকারপ্রধান আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার ব্যাংক ও বিমাসহ প্রতিটি খাত থেকে লুটপাট চালিয়েছিল, যার প্রভাব থেকে শিক্ষকদের তহবিল দুটিও মুক্ত ছিল না। জাল ইনডেক্স তৈরি এবং দুর্বল ব্যাংকে অর্থ সরিয়ে তহবিল দুটিকে প্রায় দেউলিয়াত্বের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে ২০২২ সাল থেকে শিক্ষকরা চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন। বর্তমান সরকার বিশেষ ব্যবস্থায় শিক্ষকদের এই দুরবস্থার কথা বিবেচনা করে বিশাল অংকের অর্থের সংকুলান করেছে।

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষকদের কল্যাণে ১৯৯১ সালে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং ২০০২ সালে অবসর সুবিধা বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বেগম জিয়া। শিক্ষা বিস্তার এবং নারীদের অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালুর ক্ষেত্রে তার ভূমিকা আজ বিশ্বজুড়ে রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সমাজের ‘আলোকবর্তিকা’ হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পেশা থেকে অবসর নিলেও শিক্ষক হিসেবে আপনাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়নি। বাংলাদেশের আবহমান কালের সামাজিক, পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় আপনারা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ভূমিকা রাখবেন। অনুষ্ঠানটিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ ও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের এককালীন ২ হাজার ৩৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে iBAS+ সফটওয়্যারের মাধ্যমে শিক্ষকদের নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হয়।

আজ আমরা কোনো রকম ভোগান্তি ছাড়াই অনলাইনে তাদের টাকা পাঠিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content