প্রতিনিধি 17 September 2026 , 4:19:24 প্রিন্ট সংস্করণ

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার অদূরে ড্রোন হামলার চেষ্টার ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। এই ঘটনার পর ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ বাস্তবায়নের সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। জিও নিউজের ‘আজ শাহজেব খানজাদা কে সাথ’ অনুষ্ঠানে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, পাকিস্তান এই চুক্তির শর্তের আওতাভুক্ত এবং রিয়াদের প্রতি দায়বদ্ধতা পালনে তারা প্রস্তুত। যদিও চুক্তির সুনির্দিষ্ট বিস্তারিত বিষয়ে তিনি প্রকাশ্যে কথা বলতে অপারগতা জানান।

সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মক্কার দক্ষিণ দিকে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হুতিদের একটি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সেটিকে ভূপাতিত করা হয় বলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানায় সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেনের সামরিক জোট। তাদের দাবি, পবিত্র নগরীকে লক্ষ্য করে এটি ছিল হুতিদের দ্বিতীয়বারের মতো হামলার চেষ্টা। তবে হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এমন অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, হুতিদের সামরিক অভিযানগুলো মূলত সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়, যা পবিত্র স্থানগুলো থেকে অনেক দূরে অবস্থিত।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও গাজা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে যে অস্থিরতা চলছে, তাতে পাকিস্তান বা তুরস্কের মতো দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে সংঘাত আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে খাজা আসিফের মতে, পবিত্র স্থানগুলো রক্ষার জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তির প্রয়োজন নেই। চুক্তির শর্ত থাকুক বা না থাকুক, মক্কা রক্ষা করা পাকিস্তানের একটি নৈতিক দায়িত্ব। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মক্কায় হামলা হলে তা রক্ষায় পাকিস্তান যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সৌদি আরবের প্রতিরক্ষার প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। মক্কার পবিত্র স্থানের ওপর চালানো এই ড্রোন হামলার প্রচেষ্টাকে তিনি ‘জঘন্য ও ন্যক্কারজনক’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রিয়াদের সঙ্গে পাকিস্তান কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তাকে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের অংশীদার হিসেবে পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিক্রিয়া এখন আন্তর্জাতিক মহলের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
সূত্র: মানবজমিন



















