রাজনীতি

সার সরবরাহ বেশি, তবুও বিভিন্ন এলাকায় সংকটের অভিযোগ

  প্রতিনিধি 16 September 2026 , 1:43:35 প্রিন্ট সংস্করণ

বিগত বছরগুলোর তুলনায় চলতি অর্থবছরে কৃষক পর্যায়ে সারের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কৃষি মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে মন্ত্রণালয় সার মজুত ও বিতরণের এই তথ্য উপস্থাপন করে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিম। সভায় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি মিলিয়ে মোট ৫৮ লাখ ৫০০ টন সারের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে গত জুলাই থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ১২ লাখ ১৯ হাজার টন সার মাঠপর্যায়ে বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হালনাগাদ হিসেবে ১২ লাখ ৫৭ হাজার ৯০০ টন সার মজুত রয়েছে, যা গত ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৮০০ টনের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষ করে ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সারের মজুত পরিস্থিতি গতবারের চেয়ে সন্তোষজনক বলে জানানো হয়েছে।

তবে সরকারি তথ্যের বিপরীতে সংসদীয় কমিটির অনেক সদস্যই তাদের এলাকায় সার সংকটের অভিযোগ তুলেছেন। কোনো কোনো সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার সংগ্রহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। কমিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিম জানান, সার ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি নেই। তার মতে, একটি মহল ও পালিয়ে যাওয়া সার ডিলাররা পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছেন। এছাড়া কিছু এলাকায় সার পাচারের অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। চট্টগ্রাম বা সিলেটের মতো অঞ্চলে সংকট না থাকলেও নওগাঁ ও রাজশাহীর মতো স্থানে কিছু সমস্যা পরিলক্ষিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা–২০২৬’ জারি করা হয়েছে বলে কৃষিমন্ত্রী জানান। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সার বিতরণ ব্যবস্থাপনায় মনিটরিং আরও জোরদার করা হবে। এছাড়া পলাতক ডিলারদের জায়গা পূরণে নতুন নিয়োগ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে কৃষিবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বেশ কিছু উন্নয়নমূলক বিষয়ের ওপর আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে যশোরের গদখালীতে ফুল গবেষণা কেন্দ্র ও মৃত্তিকা গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন, পাহাড় ও পরিত্যক্ত জমিতে তুলা চাষ, চরাঞ্চলে ভুট্টা, বাদাম ও মিষ্টি আলু উৎপাদন এবং কৃষিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার অন্যতম। এছাড়াও কৃষকদের উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশে পাঠানো, পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং পাটজাত পণ্য রপ্তানির বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে সার মজুত ও বিতরণের এই চিত্র তুলে ধরা হলেও সারসংকট নিয়ে কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কমিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্যদের মধ্যে বৈঠকে অংশ নেন শহিদুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, রোকন উদ্দীন বাবুল, মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সাবিরা সুলতানা, গোলাম রছুল ও আব্দুল বারী সরদার।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content