প্রতিনিধি 15 September 2026 , 7:25:33 প্রিন্ট সংস্করণ

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের আবহে ভারতের আশ্রয়ে থাকা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রনেতার ফোনে কথা হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার ফোনালাপ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া এবং কূটনৈতিক অঙ্গনে প্রবল আলোচনা চলছে। অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন খবরে দাবি করা হয়েছে, ব্রিকস সম্মেলনের সময় পুতিন শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রায় ২০ মিনিট কথা বলেছেন। সেই সময় সেখানে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালও উপস্থিত ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। দিল্লির একটি সাংবাদিক সূত্র এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে না পারলেও জানিয়েছে, বিষয়টি অসম্ভব নয়, কারণ নিজ শাসনামলে অধিকাংশ রাষ্ট্রনেতার সঙ্গেই হাসিনার ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা ছিল। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলার সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি সর্বজনবিদিত। তবে এখন পর্যন্ত এই ফোনালাপের বিষয়টি ভারত সরকার, রাশিয়া বা শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। এ বিষয়ে কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি এবং কথোপকথনের কোনো বিবরণও প্রকাশ্যে আসেনি।

শেখ হাসিনার শাসনামল থেকেই রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর প্রকল্পটি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অন্যতম বড় ভিত্তি। প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রূপপুর প্রকল্প শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, দক্ষিণ এশিয়ায় রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উপস্থিতির ক্ষেত্রেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, পুতিন-হাসিনা ফোনালাপের খবর সত্যি হলে তা রাশিয়ার বাংলাদেশ নীতি ও হাসিনার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানের ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত বহন করে।
ভারতের আরএসএস সমর্থিত সংবাদপত্র ‘অর্গানাইজার’-এর তথ্যমতে, এই ফোনালাপের খবরটি রাশিয়ার স্বার্থের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মেলবন্ধনের ইঙ্গিত দেয়, যার মধ্যে বাংলাদেশের বিশাল বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত। অর্গানাইজারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পরপরই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে সাজানোর পদক্ষেপটি পরিবর্তনশীল কূটনৈতিক সমীকরণের দিকে নতুন করে দৃষ্টি ফেরাতে বাধ্য করেছে। সব মিলিয়ে, নয়াদিল্লিতে অবস্থানকালে পুতিন ও হাসিনার মধ্যে কথা হওয়ার বিষয়টি কূটনৈতিক মহলে বড় আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে।
সূত্র: মানবজমিন



















