প্রতিনিধি 15 September 2026 , 12:17:29 প্রিন্ট সংস্করণ

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘আঞ্চলিক পাহারাদার’ হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বর্তমানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও যুদ্ধ নিয়ে তীব্র টানাপোড়েন চলছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে এক বৈঠকে ইরান এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং অখণ্ডতা বজায় রাখার সক্ষমতা শুধু স্থানীয় দেশগুলোরই রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান পাল্টা হামলা শুরু করে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে দেয়। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। এখন এই পথে জাহাজ চলাচলের জন্য তেহরান পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করেছে এবং সার্ভিস ফি নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
ইরানের নির্দেশ অমান্যকারী জাহাজগুলোতে নিয়মিত হামলা চালানো হচ্ছে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করতে দেশটির উপকূলীয় এলাকায় বারবার বোমাবর্ষণ করছে। এভাবে দুই শক্তির সংঘাত ছয় মাস অতিক্রম করায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। চলতি সপ্তাহে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানান, ইরান নানা ধরণের অবিচারের শিকার হওয়া সত্ত্বেও এই সংঘাত আর দীর্ঘায়িত করতে চায় না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের ওপর নানামুখী অন্যায়-অবিচার সত্ত্বেও আমরা যুদ্ধ কিংবা এই সংঘাতের দীর্ঘসূত্রতা চাই না। এই মুহূর্তে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের মূল অগ্রাধিকার।’
সূত্র: গালফ বাংলা



















