আন্তর্জাতিক

লোহিত সাগরের অস্থিরতা: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ঝুঁকির হাতছানি

  প্রতিনিধি 15 September 2026 , 4:21:44 প্রিন্ট সংস্করণ

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের লোহিত সাগরকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। বাব আল-মানদেব প্রণালী ও লোহিত সাগর বিশ্ব বাণিজ্যের প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত, যার মাধ্যমে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের মধ্যে স্বল্প সময়ে পণ্য পরিবহন সম্ভব হয়। এই জলপথে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব বাংলাদেশসহ বিভিন্ন আমদানিনির্ভর অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্ব বাণিজ্যে লোহিত সাগরের গুরুত্ব অপরিসীম। সুয়েজ খাল ব্যবহার করে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য সরবরাহের এই পথটি সবচেয়ে কার্যকর। কিন্তু বর্তমান নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে জাহাজগুলো এই পথ এড়িয়ে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্তের কেপ অব গুড হোপ দিয়ে বিকল্প পথে চলতে বাধ্য হচ্ছে। এতে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরত্ব বাড়ার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।

লোহিত সাগর সংকট ও বৈশ্বিক প্রভাব

  • সময় বৃদ্ধি: স্বাভাবিক রুটে পণ্য পরিবহনে যে সময় লাগত প্রায় ২৮ দিন, বিকল্প পথে তা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৪৫ দিন বা তারও বেশি।
  • লজিস্টিক ব্যয় বৃদ্ধি: বাড়তি দূরত্বের কারণে জ্বালানি খরচ, জাহাজের ভাড়া, নাবিকদের বেতন এবং সামুদ্রিক বিমার প্রিমিয়াম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • পোশাক খাতে প্রভাব: পণ্য সরবরাহের দীর্ঘসূত্রতায় বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প নানামুখী সংকটে পড়ছে।

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার বড় উৎস হলো তৈরি পোশাক শিল্প। ইউরোপ ও পশ্চিমা বিশ্বের বাজারে সমুদ্রপথে পণ্য পাঠাতে দেরি হওয়ায় পোশাক রপ্তানিকারকরা বিপাকে পড়েছেন। সময়মতো চালান গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতাদের জরিমানা প্রদান কিংবা ক্রয়াদেশ বাতিলের মতো ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এছাড়া কন্টেইনার ও জাহাজের বাড়তি ভাড়া উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।

শুধু রপ্তানি নয়, আমদানির ক্ষেত্রেও এই সংকট প্রভাব ফেলছে। শিল্প কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে বাড়তি লজিস্টিক ব্যয় যোগ হচ্ছে, যার প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারে পণ্যের দামের ওপর পড়ছে। এটি সাধারণ মানুষের জন্য মূল্যস্ফীতির চাপকে আরও প্রকট করে তুলতে পারে। এছাড়া জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। যদিও জ্বালানির স্থানীয় দাম সরকারি নীতি ও আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভর করে, তবুও নৌপথের এই অস্থিরতা দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গাজা যুদ্ধের সাথে হুথিদের এই তৎপরতা সরাসরি সম্পর্কিত। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও হুমকি নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর সুরক্ষায় বিকল্প রুটের সন্ধান এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে জোরালো অবস্থান গ্রহণের তাগিদ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের জেরে এই জলপথে উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে এর নেতিবাচক প্রভাব কেবল ওই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন আমদানিনির্ভর ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিকেও এর চড়া মূল্য দিতে হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মূলত এই পথ পাড়ি দিয়েই পণ্যবাহী জাহাজগুলো সুয়েজ খালের মাধ্যমে খুব সহজেই ইউরোপের বাজারে পৌঁছাতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের মধ্যে সংক্ষিপ্ততম দূরত্বে বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহনের প্রধান মাধ্যম এই সমুদ্রপথ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সময় বৃদ্ধি: যে পণ্যগুলো সাধারণত স্বাভাবিক রুটে প্রায় ২৮ দিনে গন্তব্যে পৌঁছাত, বিকল্প রুটে সেখানে প্রায় ৪৫ দিন বা তার বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও পশ্চিমা দেশগুলোর বাজারে আমাদের পোশাকের বড় একটি অংশ সমুদ্রপথেই রপ্তানি করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সার্বিক উৎপাদন ও সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় তৈরি হয় দীর্ঘসূত্রতা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংকট উত্তরণে ভূ-রাজনৈতিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content