আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের রেকর্ড দাম, জ্বালানি সংকট নিয়ে তীব্র উদ্বেগ

  প্রতিনিধি 14 September 2026 , 1:35:05 প্রিন্ট সংস্করণ

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক স্থগিত হওয়ার ঘটনায় সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এদিন একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দামও ১০৩ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। তেলের এই অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে।

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কর্তৃপক্ষ এটি বন্ধ করে দেয়। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শুক্রবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হলেও পাইপলাইনটি পুনরায় কবে চালু করা হবে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি দেশটি। লয়েডস ব্যাংকের বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে পাইপলাইনটি কতদিন বন্ধ থাকবে—এটিই তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ ও মূল্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। যদিও গত কয়েক দিনে এই পথে জাহাজের সংখ্যা সামান্য বেড়েছে, তবে তা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখনো খুবই কম। মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার এই প্রণালি দিয়ে মাত্র ৯টি জাহাজ পার হয়েছে, শুক্রবার ১১টি, শনিবার ১২টি এবং সর্বশেষ রোববার ১৪টি জাহাজ চলাচল করেছে। এর মধ্যে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিদের কর্মকাণ্ড বাব এল-মান্দেব প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

বাজারে অস্থিরতা আরও উসকে দিয়েছে হরমুজ প্রণালি বিষয়ক বৈঠক স্থগিত হওয়ার খবর। সোমবারের নির্ধারিত এই বৈঠকটি রোববার বিকেলে স্থগিত করা হয়। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, পারস্পরিক ঐকমত্যের স্বার্থেই বৈঠকটি পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে ইরানের ভাষ্যমতে, রিয়াদের অনুরোধেই এই বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। এদিকে, জেদ্দায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।

জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে এই সংকটের জের ধরে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। সেখানে সোমবার সাধারণ আনলেডেড পেট্রোলের জাতীয় গড় দাম বেড়ে প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ৩১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে পেট্রোলের গড় দাম ৪৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ডিজেলের দাম নিয়ে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম বেড়ে প্রতি গ্যালন ৬ দশমিক ২৩ ডলারে পৌঁছেছে, যা এখন পর্যন্ত সর্বকালের সর্বোচ্চ।

কেপিএমজির প্রধান অর্থনীতিবিদ ডায়ান সোয়ঙ্ক সতর্ক করে বলেছেন, ডিজেলের বাড়তি খরচ অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। কারণ পণ্য পরিবহন, কৃষিকাজ ও খাদ্য উৎপাদনের মতো প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ডিজেল ব্যবহৃত হয়। ফলে ডিজেলের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের জন্য খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়ে যাওয়ার জোরালো আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শনিবার এ সংখ্যা ছিল ১২, শুক্রবার ১১ এবং বৃহস্পতিবার মাত্র ৯টি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ট্রাক, নৌযান ও ট্রেনসহ পণ্য পরিবহনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হওয়ায় ডিজেলের দাম বাড়াকে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদেরা।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content