প্রতিনিধি 14 September 2026 , 1:49:30 প্রিন্ট সংস্করণ

নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস সামিটে বিশ্বের প্রভাবশালী তিন নেতা নরেন্দ্র মোদি, শি জিনপিং এবং ভ্লাদিমির পুতিন এক মঞ্চে মিলিত হন। বৈশ্বিক রাজনীতির পটপরিবর্তনের এই সময়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং উন্নয়ন এজেন্ডাকে এগিয়ে নেওয়ার গুরুদায়িত্ব মূলত এই তিন শক্তির ওপরই বর্তায়। দুই দিনের এই সম্মেলনের শেষ দিনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উদীয়মান বাজার এবং গ্লোবাল সাউথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপর জোর দেন। তিনি তার বক্তব্যে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরেন

শি জিনপিং জানান, চীন ব্রিকস এআই ওপেন সোর্স কমিউনিটি গঠনে নেতৃত্ব দেবে এবং বৃহৎ ভাষা মডেলের প্রয়োগে সমর্থন জোগাবে। এছাড়া ডিজিটাল ইকোসিস্টেম ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম তৈরি এবং স্মার্ট কারখানা নির্মাণের জন্য যৌথ নীতিমালা প্রণয়নের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্রিকস জোটের বর্তমান পরিপক্কতা তুলে ধরে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। জোটের নিজস্ব পেমেন্ট ব্যবস্থা, পুনর্বীমা সুবিধা এবং শস্যবাজার বা গ্রেইন এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার রাশিয়ার প্রস্তাবকেও গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সম্মেলনটির কার্যক্রম ঘিরে কিছু অস্পষ্টতাও থেকে গেছে। প্রথম দিন রাতে প্রধানমন্ত্রী মোদির আয়োজিত নৈশভোজে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহামেদসহ বেশ কয়েকজন নেতা অনুপস্থিত ছিলেন। ভারতের পক্ষ থেকে শি জিনপিংয়ের ক্লান্তির কথা জানানো হলেও এই ব্যাখ্যা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সম্মেলনের ফাঁকে নরেন্দ্র মোদি ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ভারত ও চীন মতপার্থক্যকে বিরোধে রূপান্তর না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে নতিস্বীকার না করার বার্তা দিয়েছেন। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বরের এই সম্মেলনে ১১টি সদস্য দেশ এবং ১০টি পার্টনার দেশ অংশ নিলেও বাংলাদেশ যোগ দেয়নি। আমন্ত্রণ প্রক্রিয়া নিয়ে অস্পষ্টতার কারণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বা তার কোনো প্রতিনিধি সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে যৌথ ঘোষণায় সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে। নয়াদিল্লি ঘোষণায় আন্তর্জাতিক বিরোধ কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের অঙ্গীকার করা হয় এবং একতরফা শুল্ক বা অশুল্ক বাণিজ্যের নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তারা টেকসই আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সমৃদ্ধির পক্ষে কথা বলেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে ব্রিকসের অন্য সদস্যদেশের সরকার প্রধান ও প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করলেও এই তিন নেতার ওপর দৃষ্টি ছিল বেশি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কারণ, আঞ্চলিক রাজনীতিতে ভারত ও চীন পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশ্ব রাজনীতিতে যে পট পরিবর্তন তাতে এ অঞ্চলের ঐক্য ও সহযোগিতা গড়ে তোলায় তাদের ওপর বড় দায়িত্ব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সঙ্গে তিনি ৫ দফা পরিকল্পনা উত্থাপন করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এআই বিষয়ে বিশেষায়িত সেমিনার ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করবে এবং এআই’র জন্য একটি উন্মুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চীন ব্রিকস বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করছে।
সূত্র: মানবজমিন



















