আন্তর্জাতিক

ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করল সংযুক্ত আরব আমিরাত

  প্রতিনিধি 19 August 2026 , 2:13:45 প্রিন্ট সংস্করণ

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের সঙ্গে তাদের সব ধরনের বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। বুধবার আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো সাম্প্রতিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আমিরাতের জলসীমায় এবং অন্যটি জলসীমার বাইরে গিয়ে পড়ে। আবুধাবির অভিযোগ, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার দাবি, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল চলমান সংঘাতের মধ্যে এটি একটি ‘ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন’ হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, দুবাই দীর্ঘদিন ধরে ইরানের জন্য একটি প্রধান বাণিজ্যিক ও আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে আসছে। সাবেক মার্কিন জেনারেল ও সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক কিমিটের তথ্য অনুযায়ী, দুবাই বর্তমানে চীন ও তুরস্ককে ছাড়িয়ে ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। ইরানের বার্ষিক আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কোনো না কোনোভাবে ইউএইর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ২০২৩ সালে দুই দেশের মধ্যে সরকারি পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ইউএই থেকে ইরানে রপ্তানি হয়েছে ৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, তামাক ও বাদাম ছিল ইরানের প্রধান আমদানিকৃত পণ্য।

আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যের বাইরেও ইরানের জন্য দুবাইয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে সরাসরি ইরানে পণ্য পাঠানো কঠিন হয়ে পড়লে, দুবাইয়ের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহ করে তা পুনরায় ইরানে পাঠানোর ব্যবস্থা করতেন। বিশ্লেষক কিমিটের মতে, ইউএইর এই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব কোনোভাবেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই, কারণ বাণিজ্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অর্থ স্থানান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে দুবাই কাজ করত।

কিমিট আরও মনে করেন, তেহরান আমিরাতের এই পদক্ষেপকে ‘প্রায় যুদ্ধ ঘোষণার মতো’ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। ফলে ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত ইউএইর এই নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content