প্রতিনিধি 13 September 2026 , 5:24:32 প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিনিয়ত অমানবিক নির্যাতন ও লাঞ্ছনার শিকার হয়ে প্রবাসী নারীদের দেশে ফেরার খবর শিরোনাম হলেও, থেমে নেই অনিরাপদ বিদেশযাত্রা। কোনো ধরনের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ছাড়াই বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ ও অপ্রচলিত দেশে কর্মী হিসেবে পাড়ি জমাচ্ছেন অনেক নারী। দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে অনেকেই সেখানে গিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ছয় মাসে প্রায় ২৬ হাজার নারী শ্রমিক ৪৭টি দেশে কাজের সন্ধানে গেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গেছেন সৌদি আরবে, যা ১৭ হাজারেরও বেশি। এছাড়া জর্ডানে সাড়ে ৬ হাজার, কাতারে ৬০০, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৫০-এর বেশি, জাপানে ১৫৫ এবং ইতালিতে অন্তত ১৫০ জন নারী কর্মী পাড়ি জমিয়েছেন।
তালিকায় থাকা অন্যান্য দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সিঙ্গাপুর ৭৭, সাইপ্রাস ৭৬, মরিশাস ৩৯, দক্ষিণ কোরিয়া ৩৭, গ্রিস ৩৫, পর্তুগাল ৩২, লাওস ও মাল্টায় ২০ জন করে, ইরাক ও লেবাননে ১৩ জন করে এবং মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া ও কেনিয়ায় ১০ জন করে নারী গিয়েছেন। এছাড়া যুক্তরাজ্য ও ম্যাকাওয়ে ৯ জন করে, ভিয়েতনাম ও রাশিয়ায় ৮ জন করে, সার্বিয়া ও মঙ্গোলিয়ায় ৭ জন করে এবং মলদোভা, ফিজি, চীন ও কুয়েতে ৫ জন করে নারী কর্মী গেছেন। তালিকায় আরও রয়েছে ব্রুনাই ও মালয়েশিয়ায় ৪ জন, স্লোভেনিয়া, বেলারুশ, সেশেলস ও বুলগেরিয়ায় ৩ জন, পোল্যান্ড, ব্রাজিল ও ওমানে ২ জন এবং অস্ট্রেলিয়া, আয়ারল্যান্ড, কম্বোডিয়া, টোঙ্গা, বাহামাস ও নিউজিল্যান্ডে অন্তত একজন করে নারী শ্রমিক।
গত বছরের একই সময়ে বিদেশগামী নারী শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ২৩ হাজার ৯৩৬ জন। সে সময় সৌদি আরবে ১৬ হাজার ৬৩২, জর্ডানে ৪ হাজার ৬৯৪, কাতারে ১ হাজার ৪৭, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৪৪৭ এবং কুয়েতে ১৭৪ জনসহ মোট ৫০টি দেশে নারী কর্মীরা গিয়েছিলেন।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী মনে করেন, এসব কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য যাচাই ও আইনি কাঠামোর বড় অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, সৌদি আরব, জর্ডান এবং হংকংয়ের মতো যেসব দেশে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর আছে, কেবল সেখানেই অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো লোক পাঠায়। কিন্তু এর বাইরের দেশগুলোতে কর্মী পাঠানোর বিষয়টি সাধারণ বাণিজ্য নয়, বরং ব্যক্তিগত উদ্যোগ বা ফড়িয়াদের মাধ্যমে ঘটছে। রাষ্ট্র কীভাবে বহির্গমন ছাড়পত্র দিচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বিশেষ করে রাশিয়া, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম বা বাহামাসের মতো দেশগুলোতে নারী শ্রমিক পাঠানোর ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন আলী হায়দার চৌধুরী। তিনি বলেন, এসব দেশে ভাষাগত দক্ষতা বা পেশাগত প্রশিক্ষণের কোনো কাঠামো নেই। অনানুষ্ঠানিক ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে এভাবে নারী কর্মী পাঠানো বন্ধ করতে সরকারকে কঠোর তদারকি ও নতুন নীতিমালা তৈরির আহ্বান জানান তিনি।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন বিভাগের সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম হাসান জানান, সম্প্রতি কাজের প্রলোভনে নারী শ্রমিকদের বিদেশে নিয়ে পাচার কিংবা অনৈতিক কাজে জড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যেসব দেশে পুরুষ শ্রমিকের উপস্থিত নেই, সেখানেও নারীদের পাঠানো হচ্ছে—বিষয়টি উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, প্রেমের বা বিয়ের ফাঁদে ফেলে বিদেশ নেয়ার মতো ঘটনাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ছাড়া সিঙ্গাপুরে অন্তত ৭৭ জন, সাইপ্রাসে ৭৬ জন, মরিশাসে ৩৯ জন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৩৭ জন, গ্রিসে ৩৫ জন, পর্তুগালে ৩২ জন, লাওসে ২০ জন, মাল্টায় ২০ জন, ইরাকে ১৩ জন, লেবাননে ১৩ জন, মেসিডোনিয়ায় ১০ জন, রোমানিয়ায় ১০ জন, কেনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বায়রা মহাসচিব বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ প্রচলিত বাজারগুলোতে বর্তমানে পুরুষ শ্রমিকের চাহিদা কমলেও নারী গৃহকর্মীদের একটি অংশ দুবাই, ওমান ও সৌদি আরবে কাজ পাচ্ছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দালালদের ফাঁদে পড়ে সব হারাচ্ছেন অনেকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাশিয়ার মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ বা ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার মতো নিজস্ব শ্রম উদ্বৃত্ত থাকা দেশে বাংলাদেশি নারীরা কী কাজ করবেন—এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, রাষ্ট্র কীভাবে এসব ক্ষেত্রে বহির্গমন ছাড়পত্র (ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স) দিচ্ছে বা নথিপত্র অনুমোদন করছে, তা স্পষ্ট নয়।
সূত্র: গালফ বাংলা


















